আমদানি হ্রাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি তিন বছরের সর্বনিম্নে

শুক্রবার, জানুয়ারি ১০, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের সঙ্গে অব্যাহত বাণিজ্যযুদ্ধ ও আমদানি সংকোচনে গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি তিন বছরের সর্বনিম্নে দাঁড়িয়েছে। এদিকে রফতানিতে কিছুটা চাঙ্গা ভাব ফিরে আসায় গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

২০১৯-এর শেষভাগের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশিত উপাত্তে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত সেবা খাতে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। চতুর্থ প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির পেছনে আমদানি হ্রাসের বিষয়টি অবদান রাখতে পারে। এছাড়া ‘অর্থনীতি বেশ ভালো অবস্থানে’ রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) মতামতের প্রতিফলন ঘটেছে।

গত মাসে ফেড ইঙ্গিত দিয়েছে যে চলতি বছরে তারা সুদহার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে। ২০১৯ সালে তিনবার সুদহার কর্তন করেছিল ফেড। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে শ্লথগতি সত্ত্বেও মার্কিন অর্থনীতিতে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে। গত গ্রীষ্মে মন্দার যে আশঙ্কা ভর করেছিল তা কেটে গেছে। মারিয়া কসমা নামে মুডি অ্যানালিটিকসের এক অর্থনীতিবিদ বলেন, মার্কিন অর্থনীতি মনে হচ্ছে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৮ দশমিক ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ৩১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন।

উল্লেখ্য, রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা গত নভেম্বরে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার বাণিজ্য ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউজের আমেরিকা ফার্স্ট নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের সঙ্গে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ১৫ দশমিক ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২ হাজার ৬৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি ৯ দশমিক ২০ শতাংশ কমেছে কিন্তু রফতানি ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ২০ দশমিক ২০ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে বাণিজ্যযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। এছাড়া ইইউ, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গেও বিরোধে জড়িয়েছে হোয়াইট হাউজ। দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মুদ্রা অবমূল্যায়ন করছে, যা মার্কিন ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে দুর্বল করে দিয়েছে।

ওয়াশিংটন ও বেইজিং যদিও গত ডিসেম্বরে প্রাথমিক ধাপের বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে, তবে চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে জটিলতা রয়েছে। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প এক টুইটে জানান, আগামী ১৫ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দেড় বছরব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধে ব্যবসায় বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি নিয়ে এসেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে মন্দা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হলে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে এ পরিস্থিতি বহাল থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে আশার কথা হলো ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সংকটের ফল অন্যান্য সেবা খাতের শিল্পে বড় কোনো প্রভাব ফেলছে না। সেবা খাতের ক্রয়াদেশ ও নতুন কর্মী নিয়োগে নিয়ন্ত্রিত প্রবৃদ্ধি ছিল।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় শেষে গত নভেম্বরের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ৩৭০ কোটি ডলার কমে ৭ হাজার ৫৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৭ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া উপাত্তে চতুর্থ প্রান্তিকে প্রকৃত বাণিজ্য ঘাটতি জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের গড়ের কম হতে পারে।

গত নভেম্বরে পণ্য আমদানি ১ দশমিক ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২০ হাজার ১১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানি কমল। সেলফোন ও অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্য আমদানি হ্রাসে ভোক্তা পণ্য আমদানি ১০০ কোটি ডলার কমেছে।