হলুদ চাদরে আবৃত্ত মাঠ: মৌ মৌ গুঞ্জনে মুখরিত চারপাশ

শনিবার, জানুয়ারি ৪, ২০২০

ঢাকা : ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে চারিদিক। প্রকৃতির নির্মল বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সুমধুর ঘ্রাণ। মাছিদের মৌ মৌ গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন চলছে হলুদের সমারোহ।

এ শীত মৌসুমে প্রকৃতি যেন সেজেছে নতুন রুপে ! যত দূর চোখ যায় চোখে পড়ে সরিষা ক্ষেত । দূর থেকে মনে হয়, যেন মাঠ জুড়ে রূপকথার অচিন রাজ্যের কোন রাজকুমারীর গায়ে হলুদ চলছে। মনে হয়, কে যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রেখেছে। হলুদ চাদরে আবৃত্ত সর্ষের মাঠে মৌমাছি ছাড়াও দেখা যায় প্রজাপতি, দোয়েল, কোয়েল, ময়না, টিয়া, শালুক পাখি সহ বিভিন্ন প্রজাতির কীটপতঙ্গের আনাগোনা। সবাই যেন গুণগুণে, কলকাকলিতে ব্যস্ত। যে যার মত আহার সংগ্রহ করছে।

গ্রাম বাংলার মেঠো পথের দুইপাশে বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত। যেদিকেই চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। চারপাশ ভরে উঠেছে হলুদের ঘ্রাণ আর সৌরভে। এই মাঠ ভরা হলুদ ফুলে আছে লাখও কৃষকের স্বপ্ন। ভোরের কাঁচাসোনা রোদে ঝলমল করছে ফসলি জমি। শীতের কুয়াশাকে উপেক্ষা করে সরিষা ক্ষেতের যত্ন নিচ্ছেন চাষিরা। কয়েক দিন পরই সরিষা উঠবে তাদের ঘরে। আবহাওয়া অনুকূলে এবং সার বীজ সংকট না থাকায় সরিষা বীজ বুনে ভাল ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। থেমে নেই মধু সংগ্রহের কাজও। সরিষা ক্ষেতগুলোর কোন কোন জায়গায় মৌ চাষিরা বসিয়েছেন মৌচাক।

গ্রামের চারপাশ এখন হলদে সর্ষে ফুলে ঢাকা। শিশির সিক্ত মাঠভরা সরিষা ফুলের গন্ধ বাতাসে ভাসছে। বিস্তৃত হলুদ ক্ষেতের মাঝে দাঁড়িয়ে অাছে সারি সারি খেজুর গাছ। এসব গাছ থেকে সূর্য ওঠার আগেই গাছিরা রস নামিয়ে ফেলেন। গ্রাম বাংলার মাঠের এই সৌন্দর্যের নান্দনিকতায় জুড়িয়ে যায় চোখ। আর মনে পড়ে যায় কবি জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যের ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার কথা। যে কবিতায় তিনি গ্রামবাংলার প্রকৃতি নিপুণ হাতে তুলে ধরেছেন একান্ত আপন মনে।