গৃহ নির্মাণ ঋণে সুদের হার কমিয়ে ৯%

শুক্রবার, জানুয়ারি ৩, ২০২০

সরকারি চাকরিজীবীদের একের পর এক সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এক দিকে যেমন তাদের বেতন অনেক বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি দেয়া হচ্ছে বিনা সুদে গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকার ঋণ ও বিনা পয়সায় জ্বালানি (মাসে ৫০ হাজার টাকা)। অন্য দিকে বাড়ি কেনা বা নির্মাণ করার জন্য দেয়া হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ সরল সুদে ব্যাংকঋণ। এই ঋণের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীরা দিচ্ছেন মাত্র ৫ শতাংশ সুদ। বাকি ৫ শতাংশ সুদ সরকার ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করছে। এখন আবার এই সুদের হারও এক শতাংশ কমিয়ে আনা হলো। কাল বুধবার থেকে শুরু হওয়া নতুন বছরে সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণের সুদের হার হবে ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৯ শতাংশ। তাও হবে সরল সুদ।

গত বৃহস্পতিবার অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গৃহ নির্মাণ ঋণের সিলিং রয়েছে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা এবং সর্বনি¤œ ৩৫ লাখ টাকা।

জানা গেছে, মূলত পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য গৃহ নির্মাণ ঋণসংক্রান্ত নীতিমালার কথা উল্লেখ করে। পরিপত্রের এক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ঋণগ্রহীতাকে ক্রমহ্রাসমান (রিডিউসিং ব্যালান্স) আসল টাকার ওপর সরকার নির্ধারিত বার্ষিক ৯ শতাংশ সরল সুদ প্রদান করা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের সূত্র জানায়, এখানে শিক্ষকদের কথা বলা থাকলেও এটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। আগামী বছরের এক তারিখ যারা গৃহ নির্মাণ ঋণ গ্রহণ করবেন তাদের ঋণের সুদ দিতে হবে ৯ শতাংশ হারে। তবে যারা ২০১৯ সালে অর্থাৎ চলতি বছর এই ঋণ নিয়েছেন তাদের আগের মতো ১০ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে যেয়ে তিনি বলেন, সরকার আগামী অর্থবছরে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার কথা বলছে। এটির জন্যই গৃহ নির্মাণ ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এই ৯ শতাংশের মধ্যে সরকার কত দিবে এবং ঋণগ্রহীতাইবা কত দেবে, সেই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। শিগগিরই একটি বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে জানা গেছে, ৯ শতাংশ সুদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীরা দেবেন ৪ শতাংশ এবং বাকি ৫ শতাংশ সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেয়া হবে।
এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই অর্থ বিভাগ থেকে ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮ পরিপত্র আকারে জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে এসব ঋণের সুদহারের ক্ষেত্রে বলা হয়, এ ঋণের জন্য ব্যাংক ১০ শতাংশ হারে সরল সুদ নেবে। অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধি সুদ (সুদের ওপর সুদ) নেয়া হবে না। সেই প্রজ্ঞাপনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তবে ২৬ ডিসেম্বর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের শিক্ষক-কর্মচারীদের এ ঋণের আওতায় এনে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বেশ কয়েক বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য বিনা সুদে ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাচ্ছেন। এই ঋণের মধ্যে পরে মাত্র তাদের ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি খরচ বাবদ কর্মকর্তাদের আবার মাসে দেয়া হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়। এতে সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। মূল বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৫ সালে সরকারের খরচ বেড়েছে ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ভাতা বৃদ্ধির পর সরকারের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বছরে ২৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা।

২০১৫ সালের পে-স্কেলে চতুর্থ শ্রেণীর চাকরির প্রারম্ভিক পদ ২০তম গ্রেডের বেতন ১০১.২৩ শতাংশ বাড়িয়ে আট হাজার ২৫০ টাকা করা হয়। পুরনো স্কেলে এই বেতন ছিল চার হাজার ১০০ টাকা। সচিব পদমর্যাদার গ্রেড ১-এর বেতন ৯৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। আগের বেতন স্কেলে গ্রেড ১-এর বেতন ছিল ৪০ হাজার টাকা। বেতন কাঠামোর ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হলেও সিনিয়র সচিবের একটি বিশেষ গ্রেড সৃষ্টি করা হয়েছে। সিনিয়র সচিবের আগের বেতন ছিল ৪২ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোতে এই বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২ হাজার টাকা। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের স্পেশাল গ্রেডের বেতন ৯১.১১ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৬ হাজার টাকা করা হয়। এই দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তার আগের বেতন ছিল ৪৫ হাজার টাকা।