খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ

শুক্রবার, জানুয়ারি ৩, ২০২০

ঢাকা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার বিকেলে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল ফের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এসময় বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সংক্ষিপ্ত পথসভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্তি না দেয়ার উদ্দেশ্যই হলো-তাকে শারীরিক অসুস্থতায় রেখে জীর্ণ করতে করতে প্রাণ বিপন্ন করা। বেগম জিয়াকে মুক্তি না দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইন, আদালত, বিচার সবকিছু হাতের মুঠোয় নিয়েছেন। জনগণের দাবি উপেক্ষা করে গুরুতর অসুস্থ বেগম জিয়াকে তার পছন্দ মতো কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দিতেও বাধা দেয়া হচ্ছে। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়া সত্বেও বেগম জিয়ার প্রতি সরকারের নিষ্ঠুর আচরণে আজ দেশবাসী চরম ক্ষুব্ধ।

তিনি বলেন, দখলদার প্রধানমন্ত্রী নিজের ক্ষমতাকে কন্টকমুক্ত করতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দিতেও কুন্ঠিত হচ্ছেন না। বর্তমানে দেশের স্বাধীনতা যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশী হুমকির মুখে। নিজেদের স্বেচ্ছাচারী কাজে কেউ যাতে জবাবদিহিতা না চায় সেজন্যই তারা গণতন্ত্রকে গোরস্থানে পাঠিয়েছে। বেপরোয়া সরকার জনগণের কোনো দাবিকেই আমলে না নিয়ে জনগণকে বন্দী করে রাখতেই অগণতান্ত্রিক দুঃশাসন অব্যাহত রেখেছে।

রিজভী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে পুরোদমে টালবাহানা চলছে। ২৯ ডিসেম্বরের রাতের ভোটের সরকার সকল অবৈধ ক্ষমতার জোরে বেগম জিয়াকে বন্দী করে রেখেছে। গুরুতর অসুস্থ নেত্রীর জামিনে বাধা দেয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে অরাজকতা, অনাচার, দুরাচার ঢাকতেই বেগম জিয়াকে এখনো মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় বন্দী করার মূল কারণই ছিল মধ্যরাতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা। বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে ভোট ডাকাতির কলঙ্কিত নির্বাচন কখনো সম্ভব ছিল না। কারণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণের কাছে একজন জনপ্রিয় নেত্রীর নাম। তিনি জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রতীক, সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক। এইজন্যই তার ওপর চলছে নির্যাতনের বিভিষিকা। আজকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, কোনোভাবেই জড়িত না থাকলেও সাজানো অভিযোগ ও মামলায় সুপরিকল্পিতভাবে বেগম জিয়াকে সাজা দিয়ে বন্দী করে রেখেছে সরকার। এ দেশে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর আমলে যারা সত্যবাদী ও প্রতিবাদী কন্ঠস্বর তাদের জায়গা হয় কারাগারে। আর গণতন্ত্র হত্যাকারীরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রাখে। যারা এখন নিজেদেরকে সরকার বলে দাবি করছে তারা অবৈধ ও ভোট সন্ত্রাসী। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে পেতে দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। জনগণের মিলিত আন্দোলনেই কেবল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্ত হবেন এবং গণতন্ত্রের বিজয় সুনিশ্চিত হবে। আমরা এই মূহুর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি চাই।