আজ খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি, টানটান উত্তেজনা

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

ঢাকা : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আজ আপিল বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। আপিল বিভাগের বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকার ১২ নম্বরে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

এ দিকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এক নম্বর আদালত কক্ষে আটটি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বুধবার সকালে প্রথমবারের মতো সিসি ক্যামেরার আওতায় আপিল বিভাগের বিচারকাজ শুরু হয়।

আর গতকাল বুধবার থেকেই সুপ্রিমকোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া, আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে, খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে গত দুইদিন ধরেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবার বিকেলে সুপ্রিমকোর্ট এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেলে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়ার পর এই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

আর খালেদা জিয়ার বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত আসে সেটা জানার জন্য আপিল বিভাগের দিকে তাকিয়ে আছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। কয়েকদিন ধরেই তারা দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ করে আসছেন। খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ পাল্টানোর চেষ্টা করছে বলে বুধবার অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার অভিযোগ-সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। জানা গেছে, আজ আদালতের আদেশ দেখে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি।

অপরদিকে, খালেদা জিয়ার শুনানিকে কেন্দ্র করে আজ দলীয় নেতাকর্মীদেরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় কাদের বলেন, কাল (বৃহস্পতিবার) রায় দেবে। তারা অগ্নিসন্ত্রাসের হুমকি দিচ্ছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার শক্তি আওয়ামী লীগের আছে। তারা সহিংসতার পথে গেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমুচিত জবাব দেবে। আপনারা সতর্ক থাকবেন, নিজে থেকে কিছু করবেন না। তবে আক্রান্ত হলে চুপ থাকবেন না।
সব মিলিয়ে সারাদেশের মানুষের দৃষ্টি থাকবে আজ আপিল বিভাগের দিকে। খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত আসে সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করছে দেশবাসী।

এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আপিল বিভাগে হট্টগোল হয়। ওই দিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট আসেনি উল্লেখ করে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি পেছানোর আবেদন করলে আপিল বিভাগ পরবর্তী শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

এরপর বিএনপি ও সরকার সমর্থক আইনজীবীদের হট্টগোলের কারণে এজলাস ছেড়ে চলে যান প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতি। এরপর আবারো আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিন আবেদনের শুনানি করার অনুরোধ জানান। তাতে সাড়া না পেয়ে আইনজীবীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

আপিল বিভাগে সেদিনের হট্টগোলের পরই সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেন সুপ্রিমকোর্ট।