রাজ্যসভায়ও বিল পাস!, থমথমে ভারতে সেনা ও কারফিউ

বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

ঢাকা: অবশেষে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অন্তোষের পরও বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ভারতের ‘নাগরিকত্ব সংশোধন বিল-ক্যাব’ রাজ্যসভায় (উচ্চকক্ষ) পাস হয়েছে। জয় হলো ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বিলটি তোলার পরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তুমুল বিতর্ক হয় শাসক ও বিরোধী পক্ষের সাংসদের মধ্যে। উত্তপ্ত বিতর্কের কয়েক ঘণ্টা পর নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পক্ষে রায় দেয় রাজসভাও।

১২৫-১০৫ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়ে গেল বহু বিতর্কিত এই বিল। এর ফলে বিলটি প্রায় চূড়ান্তই রূপ নিল। এখন শুধু রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষা মাত্র।

এদিকে ‍বিল নিয়ে থমথমে গোটা ভারত। আসামা ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন রাজ্যে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করছে সাধারণ মানুষ। আসামের গুয়াহাটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। কারফিউ জারি করা হয়েছে ত্রিপুরার একাধিক স্থানেও।

দিনভরই প্রতিবাদ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে উত্তর-পূর্বের দুই রাজ্য। আসামা ও ত্রিপুরায় একাধিক বাস ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তারা পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়েছে। পুলিশসহ অসংখ্যা মানুষ গুরুতর জখম হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ত্রিপুরায় গুলি চালিয়েছে পুলিশ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসাম ও ত্রিপুরায় সেনাবাহিনী মোতায়েনও করা হয়েছে। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, সেনা জওয়ানরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে কাজ করবেন। পাশাপাশি উত্তেজনাপ্রবণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় এলাকা দখলে রাখতে ‘রুট মার্চ’ করবে।

উত্তর-পূর্বের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনের ডাকা ১১ ঘণ্টার ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ত্রিপুরা। প্রতিবাদ মিছিলের পাশাপাশি আগরতলাগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল-ইন্টারনেট এবং এসএমএস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আর আসামের বিক্ষোভকারীরা গুয়াহাটি এয়ারপোর্টে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালকে আটকে রাখেন। তবে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী তাকে নিরাপদে সেখান থেকে নিয়ে যান।