গুজরাট দাঙ্গা থেকে মুক্তি মিললো মোদির

বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের আলোচিত গুজরাট দাঙ্গা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অব্যহতি দিয়েছে নানাবতী-মেহতা কমিশন। তবে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশও করেছে কমিশন। স্বাভাবিকভাবেই তদন্তের এই রায়ে স্বস্তিতে মোদি।

গোধরা কাণ্ডের প্রায় ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দাঙ্গার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নয় বলে ঘোষণা করেছে বিচারপতি জি.টি নানাবতী এবং অক্ষয় মেহতার কমিশন।

এর আগে ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেনের হাতে গোধরা কাণ্ডের চূড়ান্ত রিপোর্ট তুলে দেয় নানাবতী কমিশন। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে এই রিপোর্ট জমা দেয় কমিশন।

ওই বছর নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন বিচারপতি জি টি নানাবতী। পুরো রিপোর্ট তৈরি করতে মোট ২৪ বার সময়সীমা বাড়িয়েছিল কমিশন। তবে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল বলে কমিশনের অভিযোগ। রাজ্য সরকার রিপোর্টের চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়েছিল ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর। কিন্তু সেই সময়ও পেরিয়ে যায়। পরে সুপ্রিম কোর্ট মামলার তদন্তকারী সংস্থা এবং আদালতকে এই মামলার রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেয়। অবশেষে বুধবার বিধানসভায় সেই রিপোর্ট জমা দেয় কমিশন।

এর আগে ২০০৮ সালে গুজরাট দাঙ্গার আংশিক রিপোর্ট জমা দিয়েছিল কমিশন। সেই রিপোর্টে সবরমতী এক্সপ্রেসের এস-৬ কামরা পোড়ানোর পিছনে ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছিল।

২০০২ সালর ২৭ ফেব্রুয়ারিতে গোধরায় সবরমতী এক্সপ্রেসে করসেবকদের পুড়িয়ে মারার ঘটনায় গুজরাট রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। মুসলিম বিরোধী এই দাঙ্গায় অন্ততঃ ৫০০০ মুসলমান নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার তদন্তে ওই বছরের ৩ মার্চ দুই সদস্যের একটি কমিশন গঠন করে গুজরাট সরকার। কমিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জি টি নানাবতী এবং কে জি শাহকে। কিন্তু ২০০৮-এ বিচারপতি শাহের মৃত্যুর পর বিচারপতি নানাবতীর সঙ্গে কমিশনের দায়িত্ব সামলান গুজরাট হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অক্ষয় মেহতা।

তবে সমালোচকরা বলে থাকেন, ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওই সময় সদ্য রাজ্যটির মুখমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন, দাঙ্গা থামাতে তিনি কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেননি।

তবে দাঙ্গায় কোনও ধরনের ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি নেতা মোদি। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় ২০১৩ সালে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের একটি প্যানেল মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।