শ্রমিকদের খুশি রাখতে শাজাহান খান কিছু কথা বলেছেন, এতে সরকার বিব্রত নয়: কাদের

সোমবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯

ঢাকা : নতুন সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা শাজাহান খান যে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন তাতে সরকার বিব্রত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘শাজাহান খান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা। নেতা হিসেবে শ্রমিকদের খুশি রাখার জন্য কিছু কথা তাকে বলতে হয়। নেতাদের পক্ষে তিনি হয়তো কিছু কথা বলেছেন। আবার তিনি আমাদের কাছে এসেও হয়তো বলবেন এটা বলা ছাড়া আমার আর কী করার ছিল!’

‘এখানে সরকারের বিব্রত হওয়া বা বিপদে পড়ার কোনো প্রসঙ্গ নেই। সরকার তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সরকার প্রধান শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দেবেন সেভাবে সরকার চলবে, আইনের বাস্তবায়ন হবে। এখানে কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছায় কিছু হয় না। আমি মন্ত্রী, আমার নিজের ইচ্ছাতেও কিছু হয় না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে,’ যোগ করেন কাদের।

রবিবার নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান দাবি করেন, দেশের সড়কে অব্যবস্থাপনার জন্য পরিবহন শ্রমিকরা নন, মূল দায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিএ। এ সংস্থাকে সক্ষম করে তোলা না পর্যন্ত সড়কে পূর্ণাঙ্গ শৃঙ্খলা ফিরবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সেই সাথে নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে ‘জ্ঞানপাপী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি অভিযোগ করেন যে ইলিয়াস তার প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করেছেন এবং তার হিসাব জনসম্মুখে তুলে ধরার হুমকি দেন শাজাহান।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার জন্য প্রস্তুতি ভালো রয়েছে জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি যে আমাদের দলের সভাপতি পদে পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই…আমাদের কাউন্সিলরদের এটা হলো একেবারে সর্বসম্মত চিন্তাভাবনা। তাছাড়া অন্য পদগুলো নেত্রী নিজেই সাজান। তিনি যেটা ভালো মনে করেন সেটাই করেন।’

নেতৃত্ব নিয়ে দলের মাঝে কোনো অসুস্থ প্রতিযোগিতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা যে পদের জন্য যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকে তা দিতে পারেন। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অবকাশ নেই। কোনো দুঃখ, বেদনা- এসবেরও কোনো অবকাশ নেই।’

সরকারের মন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি জানিয়ে কাদের বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কাজ একটা ট্র্যাকে চলে এসেছে। ওদিকে দলেও একটা সিস্টেম তৈরি হয়েছে। ফলে আমার দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে দল বা মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজে হয়তো সেভাবে ব্যত্যয় ঘটেনি। আর আমি গেল দুই সপ্তাহ ধরে তো ঢাকার বাইরে বেশি থাকছি। শুক্র ও শনিবার ছাড়া আমি দিন শেষে বিকালে হলেও মন্ত্রণালয়ে এসে ফাইলগুলো সই করেছি। এমনকি বিমানবন্দরেও বেশ কিছু ফাইল সই করেছি।

আমার জন্য আজকের কোনো ফাইল আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখতে হয়নি। এমনকি ঢাকার বাইরে থাকতে মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ফোনেও আমি প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছে।’ ‘দায়িত্ব পালনে কোনো অসুবিধা অনুভব করছি না। অসুস্থতা ছিল, তবে এটার ওপর তো আমার হাত ছিল না।

আল্লার রহমতে এখন আমি শারীরিকভাবে যথেষ্ট সুস্থ অনুভব করছি। নেত্রী চাইলে যেকোনো দায়িত্ব দিলে আমার কোনো অনীহা থাকবে না,’ যোগ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় সম্মেলনে কেউ বাদ পড়ছেন কি না এমন প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘এখানে পারফরম্যান্সের বিষয় আছে। যারা নন পারফরমার বা যাদের পারফরম্যান্স খারাপ তাদের বড় বড় দায়িত্বে রেখে কোনো লাভ নেই। যাদের পারফরমেন্স অনেক খারাপ সেসব পদে নেতৃত্বে পরিবর্তন হতে পারে। আর আমাদের এখান থেকে কেউ বাদ যায় না, শুধুমাত্র দায়িত্বের পরিবর্তন হয়।’

দলের ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তাদের মাথায় আছে। সংগঠনে নারী নেতৃত্ব বাড়ানোর ব্যাপারে তারা আরও চিন্তাভাবনা করছেন।