বিক্ষোভে উত্তাল ভারত; ৭ পুলিশ সাসপেন্ড

সোমবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের উন্নাওতে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করে নির্মমভাবে খুন করা হয়। এর আগে হয়দারবাদে আরেক নারী ডাক্তারকে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারা হয়। এসব ঘটনায় ভারতের বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ করেছে জনতা। বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে পড়েছে উন্নাও।

এদিকে, কর্তব্যে অবহেলার জন্য উন্নাও জেলার স্টেশন হাউসে অফিসারসহ সাত পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করেছে প্রশাসন। এর আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উন্নাওয়ে নির্যাতিতা তরুণীর মরদেহ রবিবার নিজের গ্রামে সমাহিত করা হয়। শেষ বিদায় দিতে এসে ধর্ষকদের দ্রুত এবং চরম শাস্তির দাবি তোলেন সাধারণ জনতা। গণধর্ষণের শিকার ওই তরুণী শিবম ত্রিবেদী ও তার ভাই শুভমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেছিলেন। আদালতে যাওয়া ঠেকাতে নির্যাতিতাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের পরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় জামিনে ছাড়া পাওয়া অভিযুক্তরা।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে মামলার শুনানিনে আদালতে যাওয়ার জন্য রেলস্টেশনে যাচ্ছিলেন গণধর্ষণের শিকার ওই নারী। স্টেশনের কাছে মামলার আসামি শিবম ও শুভসহ পাচঁজন হামলা চালায় তার ওপর। পিটিয়ে, ছুরিকাঘাত করে, পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় নারীর শরীরে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারী শুক্রবার শেষরাতে মারা যান। মৃত্যুর আগে দিল্লিতে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা জানান নারী।

এ ঘটনার পর সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী অদিত্যনাথ গতকাল শনিবার দুজন মন্ত্রীকে উন্নাওতে পাঠান। তিনি নারীর মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দ্রুত বিচার আদালতে মামলার বিচারকাজ হবে। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

পুলিশ কমিশনার মুকেশ মেশরাম জানান, দাবি মেনে নির্যাতিতার বোনকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এক জনকে সরকারি চাকিরও দেওয়া হবে। পরিবার চাইলে অস্ত্রের লাইসেন্সও দেবে পুলিশ। এ ছাড়া অর্থসাহায্য এবং সরাকরি সহায়তায় বাড়ি করে দেওয়া হবে তাদের।