অবৈধ সম্পর্ক রক্ষায় শাশুড়িকে হত্যার পরিকল্পনাকারী পুত্রবধূ রিমান্ডে

সোমবার, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবৈধ পরকিয়া সম্পর্ক রক্ষায় শাশুড়িকে হত্যার পরিকল্পনাকারী সন্দেহে আটক পুত্রবধূ মিশুর ৩ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ৯ ডিসেম্বর রোববার ট্রিপল মার্ডার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শিশির কুমার পাল তার ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান বিচারাধীন আদালত তিনদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সূত্র জানায়, ০৭ ডিসেম্বর ভোর রাতে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রবের বাড়ী থেকে তার মা ম‌রিয়ম বেগম (৭০), মে‌জ বো‌ন মমতাজ বেগমের স্বামী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ‌ফিকুল আলম (৬০) ও খালাতো ভাই মো. ইউসুফ (২২) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ তিন জনকে নির্মম ভাবে হত্যার আলামত পেয়ে তদন্তে নামে।

তারা ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার রাজপাশা গ্রামের মৃত্যু চুন্নু হাওলাদারের ছেলে জাকির হোসেন ও তার সহযোগী জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে। জাকির ও জুয়েল প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করে। তারা পুলিশকে জানায়, রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে জাকিরের সাথে প্রবাসী রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুর অবৈধ পরকিয়া সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। জীন ভুতের আচর কাটানোর নাম করে জাকির প্রায়ই ওই বাড়িতে যাওয়া আসা করতো।

জাকির ও মিশুর পরকিয়ার বিষয়টি রবের স্ত্রী মিশুর শাশুড়ী মরিয়ম বেগম টের পেয়ে যায়। এতে ঘটনা জানাজানি হলে মিশুর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ, অবৈধ পরকিয়া সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার ভয় সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে সন্দেহে বৃদ্ধা শাশুড়ী মরিয়মকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে মিশুর পরকিয়া প্রেমিক জাকির ও জুয়েল মাফলার পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে মরিয়মকে মেরে ফেলে।

হত্যার বিষয় টের পেয়ে গেলে একইভাবে বাকি দুইজনকেও হত্যা করা হয়। এঘটনায় নিহত মরিয়ম বেগমের ছেলে ও বাড়ির মালিক কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রব এর ভাই সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে দুইজনকে অভিযুক্ত দেখিয়ে বানারীপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।থানা পুলিশ জাকির ও জুয়েলকে আদালতে সোপর্দ করলে তারা দুইজন পরকিয়ার জেড়ে হত্যার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। ৮ ডিসেম্বর তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।

তাদের স্বীকারোক্তি ও প্রাথমিক তদন্তে হত্যার পরিকল্পনায় নিহতর প্রবাসী ছেলে রবের স্ত্রী (পুত্রবধূ) মিশুর অংশ নেয়ার ব্যাপারে থানা পুলিশের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তারা মিশুকে আটক করে ওই মামলায় তদন্তে অভিযুক্ত দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিশুর ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত ৩ দিন রিমান্ড মঞ্জুর শেষে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।