রুম্পার ‘বয়ফ্রেন্ড’ সৈকত ৪ দিনের রিমান্ডে

রবিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯

ঢাকা : স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর’ ঘটনায় তার কথিত প্রেমিক রাইমান সৈকতকে ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সৈকতকে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। এসময় রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন সৈকতের আইনজীবী।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সৈকতের বিরুদ্ধে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শনিবার রাতে সৈকতক আটক করার পর রবিবার তাকে জিজ্ঞাবাদ করে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপরই তাকে দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে নিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৈকত স্বীকার করেছেন, রুম্পা ছিল তার প্রেমিকা। ঘটনার দিন (বুধবার ৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার সঙ্গে রুম্পার কথা হয়। সৈকতও একসময় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন।

গেল বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রুম্পা দুটি টিউশনি করে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। পরে কাজ আছে বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। নিচে নেমে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও পায়ের স্যান্ডেল বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে এক জোড়া পুরনো স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু রাতে বাসায় ফিরতে দেরি হলেও খোঁজখবরের এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে রুম্পাকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে রুম্পার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রুম্পার লাশ উদ্ধার করে এবং হত্যার আলামত সংগ্রহ করে। এর পর সেই আলামত ফরেনসিকে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে।

ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। গতকাল শনিবার সৈকতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ কর্মকর্তা উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, ওইদিন রাতে সৈকতের সঙ্গে সিদ্ধেশ্বরীর ওই ভবনটিতে প্রবেশ করেছিলেন রুম্পা। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে সৈকতের সঙ্গে রুম্পার ওই ভবনে প্রবেশ করার দৃশ্য পেয়েছে ডিবি পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘১১তলা ওই ভবনে রুম্পা তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে প্রবেশ করার বিষয়টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ কারণে সৈকত নামের ওই যুবককে আটক করে আনা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাদানুবাদের এক পর্যায়ে তিনি দৌড়ে গিয়ে লাফিয়ে পড়তে পারেন। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

স্থানীয়দের ধারণা, ১১তলা ভবনের ছাদ থেকেই রুম্পা লাফ দিয়েছে। ১১ তলা এই ভবনটিতে উঠতে কারও বাধা নেই। ভবনটির চার তলায় বিভিন্ন কোম্পানির করপোরেট অফিস। পাঁচতলায় মালিক পক্ষ থাকেন আর ষষ্ঠ তলা থেকে ১১ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন। লিফট দিয়ে উঠলে ১০ তলা পর্যন্ত উঠে সিঁড়ি বেয়ে ১১তলার ছাদে উঠতে হয়। ভবনটির ছাদে কবুতর পালন করা হয়।

চারতলা ভবনের নীচতলা ও চতুর্থতলায় ব্যাচেলরদের জন্য মেস রয়েছে। পাঁচতলা ভবনটির চতুর্থ তলাতেও একটি মেয়েদের মেস রয়েছে। তবে নীচতলায় ছেলেদের মেসটিতে কাউকে পাওয়া যায়নি। সব কক্ষেই তালা লাগানো পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৫৫ শান্তিবাগে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন রুম্পা। এক ভাই এক বোনের মধ্যে বড় ছিলেন রূম্পা। তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জের একটি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।