চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান বাস্তবায়নের দাবি টিআইবির

রবিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯

ঢাকা : চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সুফল নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানায় টিআইবি।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে দুর্নীতিবিরোধী ১০টি সুপারিশ তুলে ধরে টিআইবি। দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের টিআইবি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বিবেচনার জন্য সুপারিশগুলো দেয়।

সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বাস্তব সুফল নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’– এ অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি সংগঠনসমূহ যাতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে পারে তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, সব নাগরিকের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অব ফরেন ডোনেশন (ভলান্টারি এ ক্টিভিটিস) রেগুলেশন অ্যাক্ট’র বিবর্তনমূলক ধারাসমূহ বাতিল, সরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’ এর বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল, ঋণখেলাপিতে জর্জরিত রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন ব্যাংক খাতে দুর্নীতি ও জালিয়াতি এবং বেসরকারি ব্যাংকের নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত, এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনা প্রণয়নের জন্য নিরপেক্ষ যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে।

এছাড়া বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগগকারী সংস্থার পেশাদারিত্বের পাশাপাশি উৎকর্ষ কার্যকারিতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগ যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর কার্যকর প্রয়োগে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত, বিশেষ করে তথ্য আবেদনকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন ২০১১ বাস্তবায়নে একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে আইন সম্পর্কে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কর্মসূচি নিতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটির ওপর সব প্রকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তদারকি মুক্ত রাখতে হবে। অন্যদিকে দুদকের নেতৃত্ব পর্যায়ে ব্যক্তিদের অকুতোভয় সৎসাহস যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন হতে হবে। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে দৃষ্টান্তমূলক হতে হবে।

মানববন্ধনে সুপারিশসমূহ পড়ে শোনান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এ সময় টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটির স্বচ্ছতার জন্য নাগরিক, ইয়ুত এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।