ওসি পরিচয়ে আদায় করা টাকা ফেরত দিলেন এসআই

শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৯

নোয়াখালী : থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হয়ে দিতেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পরিচয়। ওসি পরিচয়ে প্রবাসীদের ভয়-ভীতি দেখাতেন, ভয় দেখিয়ে আদায় করেছিলেন অর্থও। এরপর বিষয়টি জানোয়াখালী : থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হয়ে দিতেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পরিচয়। ওসি পরিচয়ে প্রবাসীদের ভয়-ভীতি দেখাতেন, ভয় দেখিয়ে আদায় করেছিলেন অর্থও। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে প্রত্যাহার করা হয় তাকে। শুধু তাই নয়, এবার প্রবাসীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থও ফেরত দিলেন অভিযুক্ত এসআই।নাজানি হলে প্রত্যাহার করা হয় তাকে। শুধু তাই নয়, এবার প্রবাসীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থও ফেরত দিলেন অভিযুক্ত এসআই।

ওই এসআইয়ের নাম শিশির কুমার বিশ্বাস। তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি দুবাই প্রবাসী ফাতেমা বেগমকে ১২ হাজার টাকা ফেরত দেন।

গতকাল বুধবার বিষয়টি ফাতেমা নিজেই নোয়াখালীর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আবদুর রহিমকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

অভিযোগে ফাতেমা বেগম জানান, গত সোমবার রাত ৯টায় তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বোনের শ্বশুর মো. ইলিয়াছকে অভিযুক্ত এসআই শিশির কুমার বিশ্বাস হাতিয়ে নেওয়া ১২ হাজার টাকা ফেরতসহ আরও অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা দিতে চান। কিন্তু বৃদ্ধ ইলিয়াছ টাকা রাখতে না চাইলে শিশির কুমার বিশ্বাস টেবিলের উপর ১২ হাজার টাকা রেখে চলে যান। যাওযার সময় তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে তোমাদের অবস্থা ভালো হবে না’। ওই রাতে ফাতেমা বেগম তার ভিসার বিষয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিল। এসআই শিশির কুমারের টাকা রেখে আসার বিষয়ে তার বোনের শ্বশুর মো. ইলিয়াছ তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে ফাতেমাকে জানান।

ভুক্তভোগী প্রবাসী ফাতেমা বেগম আরও উল্লেখ করেন, এসআই শিশির কুমার বিশ্বাস ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া ১২ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আসলেও এখনো তিনি ও তার সহযোগী স্থানীয় বাহার ও আনোয়ারসহ অজ্ঞাত কয়েকজন অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য নানা ধরনের ভীতি সৃষ্টি করছেন। এ ছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে করা অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে নানা ধরনের মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন।

ফাতেমা বেগম অভিযুক্ত এসআই শিশির কুমার বিশ্বাসসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি প্রত্যাহার করবেন না এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আবদুর রহিমকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

ওই অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে নোয়াখালীর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আবদুর রহিম আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগটি আমার হস্তগত হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ছাড়াও ঘটনার সাথে স্থানীয় যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলমান রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্থানীয়দের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া আছে।’

উল্লেখ্য, নোয়াখারীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী আলী আহম্মদ আবদুল্লাহ শেখ (৬০) এর অধীনে চাকরি করেন। একইভাবে তার দুই ভাইসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন একই মালিকের (কফিল) দুবাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আসছেন। গত ৩ নভেম্বর আরব আমিরাতের নাগরিক আলী আহম্মদ শেখ তাদের সঙ্গে আরব আমিরাত থেকে কোম্পানীগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর তিনি তার থাকার সুবিধার্থে বসুরহাটে একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে তারা পুরো পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। পরে ৫ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে তাদের বাসায় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই শিশির কুমার বিশ্বাসসহ কয়েকজন বহিরাগত যান। তারা ঘরে ঢুকে পরিবারটিকে নানা অশ্লীল কথাবার্তা বলেন।

একপর্যায়ে তাদেরকে থানার ওসি পরিচয় দিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন শিশির কুমার বিশ্বাস। টাকা না দিলে দুজনকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। এ সময় তিনি শিশিরকে ‘ভাই’ ডেকে তার হাতে-পায়ে ধরে এ বিষয়ে কোনো কিছু না করার আকুতি জানান। পরে এসআই শিশিরের হাতে ১২ হাজার টাকা তুলে দিলে তিনি চলে যান। এ ঘটনায় গত ৩০ নভেম্বর রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেনের নির্দেশে অভিযুক্ত এসআই শিশিরকে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার নোয়াখালী পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।