রবিবার থেকে সারা দেশে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের কর্মসূচি

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯

ঢাকা : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ পেছানোর প্রতিবাদে আগামী রবিবার থেকে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বার কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এসময় তিনি বলেন, ‘আগামী রবিবার (৮ নভেম্বর) থেকে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।’

এর আগে খালেদা জিয়ার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাসে। দু’পক্ষের হট্টগোলের মধ্যে চুপচাপ বসেছিলেন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি। পরে বিচারকরা আদালতের এজলাস ছেড়ে চলে যান।

এ ঘটনার পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দাবির মুখে দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটরিয়ামে মাহবুব উদ্দিন খোকন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে আপিল বেঞ্চে বেগম জিয়ার জামিন শুনানি শুরু হলে শুরুতেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ক রিপোর্ট এখনও তৈরি করতে পারেনি। বেগম জিয়ার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও বাকি আছে। এজন্য রিপোর্ট তৈরিতে আরও কয়েদিন সময় প্রয়োজন।’

এসময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। আগে তাঁর জামিনের ব্যবস্থা করুন।’

এসময় মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য সময় বাড়িয়ে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করে আদেশ দেন আদালত।

তখন আদালতে অবস্থানরত বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ‘এ আদেশ মানি না’ বলে উচ্চস্বরে শ্লোগান দিতে থাকেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের শ্লোগানের বিরোধিতা করলে শুরু হয় হট্টগোল, দুপক্ষের বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি শ্লোগান।

এর এক পর্যায়ে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেগম জিয়ার জামিন শুনানি মুলতবি করে এজলাস ছেড়ে যান প্রধান বিচারপতি ও বেঞ্চের সদস্যরা। এরপর প্রায় দেড়-দুই ঘণ্টা আদালতের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য রিপোর্ট ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে মেডিকেল বোর্ডকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। কিন্তু মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি আছে জানিয়ে আদালতের কাছে আজ সময় আবেদন করলে পিছিয়ে যায় বেগম জিয়ার জামিন আদেশ।