যে আচরণ করেছেন তা নজিরবিহীন: বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের প্রধান বিচারপতি

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯

ঢাকা : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ পেছানো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের ‘হট্টগোল, শ্লোগানকে’ নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সব কিছুর সীমা থাকা উচিত। আপনারা এজলাস কক্ষে যে আচরণ করেছেন তা নজিরবিহীন।’

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে পুনরায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৬ বিচারপতির আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের কার্যক্রমের শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে আপিল বেঞ্চে বেগম জিয়ার জামিন শুনানি শুরু হলে শুরুতেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ক রিপোর্ট এখনও তৈরি করতে পারেনি। বেগম জিয়ার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও বাকি আছে। এজন্য রিপোর্ট তৈরিতে আরও কয়েদিন সময় প্রয়োজন।’

এসময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। আগে তাঁর জামিনের ব্যবস্থা করুন।’

এসময় মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য সময় বাড়িয়ে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করে আদেশ দেন আদালত।

তখন আদালতে অবস্থানরত বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ‘এ আদেশ মানি না’ বলে উচ্চস্বরে শ্লোগান দিতে থাকেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের শ্লোগানের বিরোধিতা করলে শুরু হয় হট্টগোল, দুপক্ষের বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি শ্লোগান।

এর এক পর্যায়ে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেগম জিয়ার জামিন শুনানি মুলতবি করে এজলাস ছেড়ে যান প্রধান বিচারপতি ও বেঞ্চের সদস্যরা। এরপর প্রায় দেড়-দুই ঘণ্টা আদালতের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য রিপোর্ট ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে মেডিকেল বোর্ডকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। কিন্তু মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি আছে জানিয়ে আদালতের কাছে আজ সময় আবেদন করলে পিছিয়ে যায় বেগম জিয়ার জামিন আদেশ।