‘অনৈতিক কাজ’ শেষে টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডায় মিরপুরে জোড়া খুন

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯

ঢাকা : অনৈতিক কাজ শেষে ৩ হাজার টাকা দিতে গেল ৬ হাজার টাকার দাবি করেন নিহত দুই নারী। এসময় ৬ হাজার টাকা না দিলে মৃত্যুর ভয় দেখায় ওই দুই নারী। মৃত্যুর ভয়ে ঝামেলা এড়ানোর জন্য প্রথমে গৃহকর্মী সুমি (২০) ও এরপর বৃদ্ধা রহিমা বেগমকে (৬০) গলা টিপে হত্যা করে খুনিরা।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. আবদুল বাতেন।

তিনি বলেন, গত ২ ডিসেম্বর রাতে মিরপুর সেকশন ২ এর একটি বাড়ির ৪র্থ তলায় ফ্ল্যাটে রহিমা বেগম (৬০) ও সুমি (২০) নামের দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। বুধবার থেকে এই জোড়া খুনের ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে ডিবি পশ্চিম বিভাগ। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাট এলকা থেকে ডিবি পশ্চিম বিভাগের একটি টিম ইউসুফ (২৩) ও রমজান (২২)কে গ্রেফতার করে।

আবদুল বাতেন বলেন, ঘটনার রাতে ওই দুইজন অসামাজিক কাজ করতে মিরপুরের ওই ফ্ল্যাটে যায়। পরবর্তীতে টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। রাতে তাদের একজন বাসার একটি কক্ষে এবং আরেকজন বারান্দায় রাত্রিযাপন করে। সকালে উঠে টাকা নিয়ে আবার ঝামেলা হতে পারে এবং মারধোর করতে পারে এমন আশঙ্কায় ইউসুফ ও জুয়েল প্রথমে সুমিকে গলা টিপে হত্যা করে। এরপর তারা সুমি অজ্ঞান হয়ে গেছে জানিয়ে রহিমা বেগমকে তার কক্ষের বাইরে আসতে বলেন। রহিমা বেরিয়ে আসলে তাকেও গলা টিপে হত্যা করে তারা। পালিয়ে যাওয়ার সময় মোবাইল, ১৪ হাজার টাকা এবং সোনা ভেবে ইমিটেশনের ৩টি চেইন ও ১টি কানের দুল নিয়ে যায়।

ওই ঘটনায় রহিমা বেগমের মেয়ে বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় বুধবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই সদরঘাট এলাকা থেকে ইউসুফ ও তার সহযোগী রমজানকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে বরাত দিয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাবুল নামে এক ব্যক্তি গত সোমবার (২ ডিসেম্বর) তাদের মিরপুরের ওই দুই নারীর (রহিমা ও সুমি) কাছে পাঠায়। অনৈতিক কাজের জন্য রহিমার দাবি ছিল ছয় হাজার টাকা। কিন্তু ওই সময় আসামিদের কাছে ছিল তিন হাজার টাকা। গ্রেফতার হওয়া দুই আসামির একজন (ইউসুফ) সারা রাত সুমির সঙ্গে এক রুমে ছিলেন। অন্যজন (রমজান) ছিলেন বারান্দায়।