ঢাকায় পেন্টাগন কর্মকর্তা: প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আরও সময় চায় বাংলাদেশ

বুধবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৯

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বিষয়ক চুক্তি ‘আকসা’ ও ‘জিসোমিয়া’ সইয়ে আরও সময় নিতে চায় বাংলাদেশ। চুক্তি দু’টির বিষয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত রাখতে উভয়ের তরফেই আগ্রহ পূনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। গত বছর দুই চুক্তির প্রস্তাব আলোচনার টেবিলে তোলে ওয়াশিংটন।
জানা গেছে, প্রথমবারের মত মঙ্গলবার ঢাকায় আসা পেন্টাগনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা র‍্যান্ডল শ্রাইভার প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। তাঁদের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পায় জানিয়ে সূত্র বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী) শ্রাইভার বুধবার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। মধ্যাহ্নে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার মতবিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র এ-ও জানিয়েছে, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের আয়োজনের মঙ্গলবার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও পেন্টাগন কর্মকর্তার বৈঠক হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে ঢাকা-ওয়াশিংটন বিদ্যমান সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে দুই পক্ষ।
বিশেষত: দুই দেশের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তা। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ ছিল ঢাকার।
আলোচনায় প্রস্তাবিত অস্ত্র কেনাকাটা বিষয়ক চুক্তি-আকসা (একুইজেশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট) এবং অস্ত্র বিষয়ক গোপন তথ্য বিনিময় ও সুরক্ষা চুক্তি-জিসোমিয়ার (জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) বিষয়ে আরও আলোচনা-পর্যালোচনার তাগিদ অনুভব করেছে ঢাকা।ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিও এতে সায় দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তির হেলিকপ্টার ও রাডার বিক্রির প্রস্তাব রয়েছে। বাংলাদেশ এতে গররাজি নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী কোনো দেশের কাছে উন্নত প্রযুক্তির সমরাস্ত্র বিক্রির আগে সেই দেশের সঙ্গে জিসোমিয়া সই করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকারর বৈঠকে সমুদ্র নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আলোচনায় মার্কিন সহকারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সাগরের বুকে বুকে নতুন চ্যালেঞ্জের বিষয়টি তুলেছেন। অবশ্য চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দুই দেশের এক সঙ্গে কাজের সুযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতায় সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে দুই পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। র‍্যান্ডল শ্রাইভার সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের সামর্থ্য বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পুঞ্জিভূত এ সঙ্কটের টেকসই সমাধানে আসিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন শ্রাইভার।