চলতি ডিসেম্বরেই শুরু হতে যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট

বুধবার, ডিসেম্বর ৪, ২০১৯

ঢাকা: চলতি ডিসেম্বরেই শুরু হতে যাচ্ছে ই-পাসপোর্টের (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) কার্যক্রম। ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক পাসপোর্টের (ই-পাসপোর্ট) জন্য ফি নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ই-পাসপোর্টের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও কাগজপত্র সত্যায়ন করতে হবে না। এমনকি ছবি সংযোজন ও তা সত্যায়ন করারও দরকার নেই। জরুরিভাবে পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে এবং অন্যান্য তথ্য ঠিক থাকলে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। অতি জরুরি পাসপোর্ট ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের মধ্যে দেয়া হবে। ই-পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ কাল, বিতরণের ধরন অনুসারে ভ্যাট ছাড়া সর্বনিম্ন ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ফি ১২ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বর্তমানে পাসপোর্টের জরুরি ফি ভ্যাটসহ ৩ হাজার ৪৫০ ও অতি জরুরি ফি ভ্যাটসহ ৬ হাজার ৯০০ টাকা।

এদিকে, ই-পাসপোর্ট চালুর সব কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। চলতি মাসে সময় নির্ধারণ করে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে শিগগিরই আয়োজন করা হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে কয়েক দফা উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গিয়েছে বার বার। গত ১ জুলাই থেকে অত্যাধুনিক ই-পাসপোর্ট পাওয়ার কথা ছিলো বাংলাদেশের নাগরিকদের। যে পাসপোর্টের ডাটা থাকবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ডাটা বেইসেও। এই উদ্যোগ ২০১৭ সালে নেয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সময় পাওয়া সাপেক্ষে চলতি মাসের যেকোনও একদিন চালু হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ই-পাসপোর্ট।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরাপত্তা ও বহিরাগমন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ আজহারুল হক বলেন, ‘ইতোমধ্যে ই-পাসপোর্টের ফি নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। তিনি দেশে ফিরলেই (কপ-২৫ সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে স্পেন সফর শেষে ৪ ডিসেম্বর সকালে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী) ই-পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় নির্ধাণ করা হবে।’

ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পরে এমআরপি পাসপোর্ট বন্ধ হয়ে যাবে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ই-পাসপোর্ট ও এমআরপি দুটিই চালু থাকবে। নাগরিকরা যে ধরনের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবে, তাদের সেই পাসপোর্টই সরবরাহ করা হবে।

ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। এ পাসপোর্ট চালুর জন্য জার্মানির সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে অনেক আগেই। তাদের কারিগরি সহযোগিতায় ই-পাসপোর্ট চালু হতে যাচ্ছে।

পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে পাঁচ ও ১০ বছর। পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যাও হবে দুই ধরনের, ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠা। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বিতরণের পদ্ধতি তিন ধরনের- সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরি। দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে এবং অন্যান্য তথ্য সঠিক থাকলে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে ২১ কর্মদিবসের মধ্যে। জরুরিভাবে পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে এবং অন্যান্য তথ্য ঠিক থাকলে সাত কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। অতি জরুরি পাসপোর্ট ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের মধ্যে দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনকারীকে নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ করে আবশ্যিকভাবে আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

ই-পাসপোর্টে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে। বর্তমানে এমআরপি ডাটা পেজে যেসব তথ্য আছে, তা ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে। এই ই-পাসপোর্টের মেয়াদ বয়স অনুপাতে ৫ ও ১০ বছর হবে।

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ জানান, একশোর বেশি উন্নত দেশ ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে থাকে। আর সে তালিকায় এবার যুক্ত হবে বাংলাদেশ। এতে সহজ ভ্রমণের পাশাপাশি কারো বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে। ই-পাসপোর্টে মোট ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকবে। তবে ভিসা নিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বহাল থাকবে আগের পদ্ধতি।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ১১৯টি দেশের নাগরিক ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। ই-পাসপোর্ট চালু হলে ১২০তম দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম লেখা হবে। ই-পাসপোর্ট ই-গেটের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখার সঙ্গে সঙ্গে বাহকের পরিচয় নিশ্চিত করবে। নির্দিষ্ট নিয়মে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গার প্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে দ্রততম সময়ের মধ্যেই ভ্রমণকারী ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন। ই-গেটে কোনো তথ্যবিভ্রাট ঘটলেই লালবাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সঠিকভাবে ই-পাসপোর্ট ব্যবহারে সহযোগিতা করবেন।