নেত্রকোনায় অবৈধ লাকড়ী মিল, ঝুঁকিতে ১৫টি পরিবার

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩, ২০১৯

নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা পৌর শহরের পাটপট্রি নিখিলনাথ রোডে ফায়ার সার্ভিস অফিসের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে কয়েল ও লাকড়ির মিল চালানোর অভিযোগ উঠেছে এ টি এম শামছুজ্জামান মাসুদের বিরুদ্ধে।

এতে করে ওই এলাকায় প্রায় ১৫টি পরিবার জীবন ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। নিখিলনাথ রোডের বাসিন্দা লিটন চন্দ্র সাহা, ভানু চন্দ্র সরকার, গোবিন্দ চন্দ্র সাহা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, নেত্রকোনা পৌর সভার ৫নং ওয়ার্ডের নিখিলনাথ রোডে নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস অফিস সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা এ টি এম শামছুজ্জামান মাসুদ কয়েল ও লাকড়ির মিল পরিচালানা করে আসছেন। এতে করে ওই এলাকার পরিবেশ দুষিত হচ্ছে।

মিলের আশপাশে বেশ কিছু বাসা রয়েছে। মিলের কালো ধোয়ায় ওই সমস্ত বাসার লোকজনের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ হচ্ছে। মিলের ধোয়া ও দুর্গন্ধে মানুষের দুর্বিসহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে। মিল চালু করলে পুরো এলাকা ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করলে মিল মালিক এলাকাবাসীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। এমনকি গায়ে হাত দেয়ার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

মিল তৈরীর প্রাক্কালে নেত্রকোনা পৌরসভা, পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোন কাজ হয়নি। মিল মালিক প্রভাব খাটিয়ে মিলটি চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২০ অক্টোবর ভোরে ওই মিলে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভেসের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রন করে। আগুন নেভাতে দেরী হলে ওই এলাকার অনেক ক্ষতি হয়ে যেতো।

মিল মালিক এ টি এম শামছুজ্জামান মাসুদ অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মিল পরিচালনা করছি। এতে কারো কোনো সমস্যা হলে মিল বন্ধ করে দেয়া হবে।

নেত্রকোনা পৌর সভার মেয়র মো: নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নেত্রকোনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী এলাকাবাসী একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের সত্যতা পেলে ঐ মিলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।