‘রে‌ডি, স্টার্ট’ পর্ব শেষ, এখন ‘গো’ বলতেই ঝাঁপিয়ে পড়বেন: নেতাকর্মীদের আলাল

সোমবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৯

ঢাকা : দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘দৌড় প্রতিযোগিতায় যেমন রেডি’র পরে স্টার্ট বলা হয় এবং গো বলার পর যেমন সবাই একযোগে দৌড় দেয় তেমনই আমাদের আন্দোলনের রেডি, স্টাড পর্ব শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু গো বলার পালা। গো বললেই সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একযোগে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কখন আন্দোলন হবে এই দায়িত্বটা স্থায়ী কমিটি ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ওপরে ছেড়ে দিয়ে আপনারা চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিন। কারণ যেকোনও মুহূর্তে ‘গো’ বলা হবে। যখনই ‘গো’ বলা হবে তখনই আপনারা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আনবেন। মনে রাখবেন- এই সরকারের পতনের সময় ঘনিয়ে এসেছে।’

সোমবার (২ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বরিশাল গৌরনদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘পুরো বাংলাদেশটাই আজ কারাগার’- মন্তব্য করে আলাল বলেন, ‘মুক্ত করা দরকার বাংলাদেশকে। কারণ পুরো বাংলাদেশটাই আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া একটি নির্দিষ্ট কারাগারে, আকন কুদ্দুস একটি ছোট কারাগারে আর সারা দেশের জনগণ বাংলাদেশ নামক একটি বৃহৎ কারাগারে বন্দি হয়ে আছে।’

এসি রুমের মধ্যে আলোচনা সভা করে কোনও সফলতা আসবে না উল্লেখ করে উপস্থিতি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা কি বিভাগীয় শহরে জনসভা করিনি? বিনা অনুমতিতে কার্যালয়ের সামনে জনসভা করিনি? তাহলে এ ধরনের কথা কেন? আন্দোলনে ঐক্যমত আর কমিটি গঠনের সময় নিজের মত- এই জায়গা থেকে আমাদেরকে সরে আসতে হবে। আন্দোলনে সফল হতে হলে নেতৃত্ব গঠনের সময় ঐক্যমত হতে হবে। দুই দিকে বিচরণ করলে কোনও সফলতা আসবে না।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘এই সরকার দেশটাকে যে জায়গায় নিয়ে গেছে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনতে শুধু বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী নয়, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে দেশের সকল জনগণকে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কীসের এত হতাশা? সব হতাশা কাটিয়ে আন্দোলনে সফল হতে হবে। হামলা-মামলা, গুম-খুন-নির্যাতন-ধর্ষণ এমন কোনও অত্যাচার নাই যা আমাদের ওপরে আসেনি। তারপরও হতাশা হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের জন্য আগামী ৫ ডিসেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

এ ব্যাপারে আলাল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কীসের ৫ ডিসেম্বর, পারলে এখনই মুক্তি চাই আমরা। তারিখ দিয়ে আন্দোলন হয় না।’

এসময় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বেগম সেলিমা রহমান, পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী ও কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।