‘প্রতিটা স্বামীর উচিত স্ত্রীকে প্রতিমাসে একটা হাত খরচ দেয়া’

শনিবার, নভেম্বর ২৩, ২০১৯

একটা মেয়ে তার নিজের সংসারে দৈনন্দিন যে কাজগুলো করে, সেটাকে যদি প্রকৃত অর্থে মূল্যায়ন করা হতো তবে মেয়েরা এত বহির্মুখী হতো না। এই সমাজ ব্যবস্থা “হাউজ ওয়াইফ” আইডেন্টিটিকে সঠিক মর্যাদা দিতে পারে না বলেই মেয়েরা নিজের “আইডেন্টিটি ক্রাইসিস”এ ভোগে। রান্না করা, সুন্দরভাবে সংসার গোছানো, আদর স্নেহ, সময়, প্রকৃত শিক্ষা দিয়ে সন্তানকে বড় করা এই কাজগুলো যে অফিসের গদবাধা কাজের থেকে অনেক চ্যালেঞ্জিং সেটা বুঝতে পারলে মেয়েরা এত আদরের সন্তানকে কাজের লোকের কাছে/ ডে কেয়ারে রেখে তথাকথিত ক্যারিয়ারের পিছনে ছুটতো না।

অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও অনেক বড় একটা কারণ মেয়েদের বহির্মুখীতার পিছনে। প্রতিটা স্বামীর উচিত তার নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে স্ত্রীকে প্রতিমাসে একটা হাত খরচ দেয়া, তার আগে স্ত্রী প্রতিদিন যে কাজটা করে সেটাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা।

আপনি প্রতিনিয়ত বলবেন “সারাদিন বাসায় বসে করোটা কি” সাথে সাথে চাইবেন নিজের আত্মসম্মান বিকিয়ে দিয়ে প্রতিদিন এই ধরনের কথা হজম করে একজন মেয়ে তার বাইরে কাজ করার যোগ্যতা থাকা সত্বেও সে ঘরে বসে থাকবে, এমন আশা করা ভুল।

আপনি বিতর্কে যেতেই পারেন কেন চাকরিজীবী মেয়েদের সন্তানেরা কি মানুষ হচ্ছে না, বা সব গৃহিণীদের সন্তানেরাই কি শুধু মানুষ হচ্ছে। সে তর্ক দীর্ঘ, আরেকদিন করবো।

আমি মেয়েদের স্বাবলম্বী হওয়ার সাথে ১০০% একমত, কিন্তু যদি সুযোগ না থাকে, বাচ্চাকে কাজের লোকের হাতে মার খাইয়ে, ভয়ংকর একটা ট্রমার মধ্যে বাচ্চাকে বড় করার মধ্যে কোনো সার্থকতা নেই।

দিন বদলাচ্ছে, আপনি বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি থেকে আলাদা থাকতে চাইবেন, রাতে ঘুমানোর সময়টুকু শুধু বাচ্চাকে দিবেন তাও আবার ওই সময়টুকু অফিসের পেরেশানিতে মন মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকবে যার প্রভাব বাচ্চার উপর পড়বে, সাথে সাথে আশা করবেন দেশে বৃদ্ধাশ্রম থাকবে না সেটা হয় না।

অরিন তানবীনের ফেসবুক থেকে…