সার্জিক্যাল অপারেশন ছাড়া সরকারের দুঃশাসন থেকে জনগণের মুক্তি নেই: সেলিম

শুক্রবার, নভেম্বর ২২, ২০১৯

ঢাকা: একটি সার্জিক্যাল অপারেশন ছাড়া ‘সরকারের দুঃশান’ থেকে জনগণের মুক্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মওলানা ভাসানী ও আমাদের সময়ের রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সিপিবি সভাপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তির অবদান নয়। বাংলার মানুষের মুক্তির সংগ্রামে যারা ভূমিকা রেখেছেন, সন্দেহাতীতভাবেই মওলানা ভাসানী তাদের মাঝে অন্যতম। ভোটের রাজনীতি বা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি নয়, ভাত-কাপড়ের রাজনীতি দিয়েই তিনি মানুষকে সংগঠিত করেছেন। জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করেই তিনি আপোষহীনভাবে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন।
তিনি বলেন, আজকেও মুক্তি পেতে হলে জনগণের সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করেই মাওলানার রাজনীতিকে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সরকারের দুঃশাসনটা এমন পর্যায়ে যে একটা না যেতেই আরেকটা চলে আসবে। একটা সার্জিক্যাল অপারেশন ছাড়া সরকারের দুঃশাসন থেকে জনগণের মুক্তি নেই।
একই সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘রাজনীতিতে গান্ধীর ধারা ছিল অহিংস, মওলানার রাজনীতি ছিলো বলপ্রয়োগের। তাকে টাইম পত্রিকা প্রফেট অব ভায়োলেন্স আখ্যা দিয়েছিল উনসত্তুরের গণঅভ্যূত্থানের সময়ে, তাকে নেতিবাচকভাবে উত্থাপন করার জন্য। কিন্তু মওলানা যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন, তা কাউকে আগুনে পুড়িয়ে মারবার নয়, তা মুক্তির আলো জ্বেলেছিল। কাগমারী সম্লেলনে মওলনা সাম্রাজ্যবাদ ও কৃষকের ওপর নির্যাতনকারী সামন্তবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আহবান জানিয়েছিলেন।
মওলানা ভাসানীর জীবনীকার ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ভাসানীকে আজকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্মরণ করা হয় না। তার ভূমিকাকে আড়াল করা হয়। অথচ ভাষা আন্দোলন, উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধ, কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনসহ মুক্তির সংগ্রামের সকল ঘটনায় মওলানা ভাসানী ছিলেন অগ্রনায়ক।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, কারও জন্য অপেক্ষায় না থেকে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আজকে বাংলাদেশের মানুষ পেঁয়াজ নিয়ে সঙ্কটে আছে, ভোট নিয়ে সঙ্কটে আছে, সঙ্কটে আছে নিপীড়ন-নির্যাতন নিয়ে। ভাসানীর পথ ধরে মানুষকে ডাক দিতে পারলে মানুষ ঠিকই নেমে আসবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আজকে যখন মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, রাষ্ট্রে কোন ন্যূনতম জবাবদিহিতা নেই, জাতীয় স্বার্থ প্রতিনিয়ত ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে তখন ভাসানীর রাজনীতি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ বহু দিক দিয়ে বিপন্ন। আজকে মাওলানার অনুপস্থিতি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে, তার মত করে ‘খামোশ’ বলে হুঙ্কার ছাড়বে, এমন মানুষের অভাব অনুভূত হচ্ছে। দেশের মানুষের আজ ভোটের অধিকার নেই, নেই কথা বলবার স্বাধীনতা। জবাবদিহিতাহীন শাসনে নজিরবিহীন সম্পদ আজকে দেশ থেকে প্রতিদিন পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে একের পর এক দেশবিরোধী চুক্তি। পেঁয়াজসঙ্কট বা আবরার হত্যা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, সব মিলিয়ে আমরা দুঃশাসন আর নিপীড়নের যে ভয়াবহ চিত্র দেখতে পাচ্ছি, তার থেকে মুক্তির দিশা আমাদের মওলানা ভাসানীর রাজনীতিতেই খুঁজতে হবে।