মধু খান তো?

শুক্রবার, নভেম্বর ২২, ২০১৯

স্বাস্থ্য ডেস্ক : আমরা অনেকেই আছি, যারা মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করলে মধু খাওয়াও বন্ধ করে দিই। এমনটা করা কিন্তু শরীরের জন্য একেবারেই ভাল নয়। এই একটি মাত্র প্রাকৃতিক উপাদান যা আপনার শরীরকে বিভিন্নভাবে রোগ থেকে দূরে রাখে। শরীরের নানাবিধ সমস্যা দূর করতে মধুর জুড়ি মেলা ভার। ওজন কমাতেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, আরো অনেক উপকারি এই মধু। চলুন দেখে নেয়া যাক মধুর অন্যান্য উকারিতা-

১. ক্যান্সার এবং হৃদরোগ দূরে রাখে মধু: মধুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাবনয়েড এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় ক্যান্সার থেকে হৃদরোগ, এমনকি সাধারণ অনেক রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয় মধু।

২. পেটের আলসারের চিকিৎসায় কাজে আসে: ভুল খাদ্যাভ্যাস এবং সময় মেনে না খাওয়ার কারণে অনেকেই আলসারের সমস্যায় ভুগে থাকেন। আবার অপরিচ্ছন্ন জায়গায় অথবা ঠিক মতো পরিষ্কার না করা বাসনে খাবার খেলেও পেটের ভিতর নানাধরনের জীবাণু ঘটিত সমস্যা দেখা দেয়। এমন ধরনের নানা সমস্যাকে দূর করতে মধুর কোনও বিকল্প হয় না বললেও চলে।

৩. জীবাণু এবং ছত্রাক নাশক: নিউজিল্যান্ডের অয়েকাটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা থেকে জানা যায় পৃথিবীতে যত জায়গায়, যত ধরণের মধু পাওয়া যায়, তার প্রত্যেকটিই অত্যন্ত উপকারি এবং গুণসমৃদ্ধ। কারণ মধু তৈরি হওয়ার সময় মৌমাছিরা এক ধরণের উৎসেচক মধুর মধ্যে প্রবেশ করায়। আর এই উৎসেচক মধুর মধ্যে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়, যা মানব দেহে জীবানু নাশক হিসাবে খুবই কার্যকরী ভূমিকা নেয়।

৪. খেলোয়াড়দের এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে: এক সময় অলিম্পিকে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়েরা মধু খেয়ে এনার্জি বৃদ্ধি করতেন। মাঝে মাঝে মধুর সঙ্গে খেতেন শুকনো ফিগ। এই দুই উপাদান স্বাদে মিষ্টি এবং হাজারো গুনে সমৃদ্ধ, যার অন্যতম হল এই যুগলবন্দী খুব তাড়াতাড়ি শরীরে এনার্জির ঘাটতি দূর করে। এমনকি বহু পরীক্ষায় দেখা গেছে এনার্জি বৃদ্ধিতে মধু এবং ফিগের মতো কাজ অন্য কোনও উপাদান করতে পারে না।

৫. সর্দি এবং গলার সংক্রমণ কমায়: সর্দি, কাশি সহ গলার যে কোনও ধরনের সংক্রমণ কমাতে মধু দারুন কাজ করে। প্রসঙ্গত, ১১০ জন শিশুর ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এক ফোঁটা বাকহুইট মধুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ডেক্সট্রোমেথরফ্যান থাকে, যা কাশি সর্দির সমস্যা কমিয়ে আরাম প্রদান করে এবং নিশ্চিন্তে ঘুমোতে সাহায্য করে। তাই এবার থেকে এই ধরনের কোনও সমস্যা হলে বাজার থেকে এই বিশেষ ধরনের মধুটি এনে খাওয়া শুরু করবেন, দেখবেন উপকার মিলবে।

৬. আরও কিছু অবদান: প্রায় চার হাজার বছর ধরে ভারতবর্ষে আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে মধুর ব্যবহার হয়ে আসছে। মধুর নিয়মিত ব্যবহারে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে ওজন কমে, সন্তান ধারণে অক্ষমতা দূর করতে সাহায্য করে, মূত্রনালির সংক্রমণ দূর হয় এবং শ্বাসকষ্ট কমে। এছাড়াও ডাইরিয়া এবং বমি বমি ভাব দূর করতেও মধু দারুণ উপকারি ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, যে কোনও ভেষজ ওষুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে এর কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।

৭. রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিক থাকে: মধুতে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি জাতীয় উপাদান থাকলেও এই প্রকৃতিক উপাদানটি চিনির বা অন্যান্য মিষ্টির মতো ক্ষতিকারক নয়। মধুর মধ্যে একদম সঠিক মাত্রায় ফ্রকটোজ এবং গ্লকোজ থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না, বরং নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৮. ক্ষতস্থানে লাগালে উপকার মেলে: শরীরের কোনও জায়গায় কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে মধুর ব্যবহারে খুবই উপকার পাওয়া যায়। ক্ষতস্থানে মধু এবং চিনি মিশিয়ে লাগালে জীবাণুনাশক হিসাবে তো বটেই, সেই সঙ্গে ক্ষতস্থান তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যেতেও সাহায্য করে মধু।

৯. প্রোবায়োটিক: খারাপ ব্যাকটেরিয়া যেমন ক্ষতিসাধন করে, তেমনি কিছু ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরে প্রবেশ করার পর ভাল ভাল কাজ করে থাকে। তেমননি উপকারি ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে অন্যতম হল ৬ ধরণের ল্যাক্টোব্যাসিলি এবং ৪ ধরণের বিফিডোব্যাকটেরিয়া, যা মধুতে ব্যাপক হারে মজুত থাকে।

১০. ত্বকের যত্নে কাজ আসে: সারাদিন ধুলো বালিতে আমাদের ত্বকের দারুণ ক্ষতি হয়। যে কারণে ত্বকে নানা ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে যদি মধুকে কাজে লাগানো যায়, তাহলে দারুন উপকার পাওয়া যায়। কেমন ভাবে মুখে লাগাবেন মধু? নানা ধরণের ফেসপ্যাকের সঙ্গে মধু ব্যবহার করতে পারেন। এমনটা করলে দারুন উপকার মেলে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৪০ ধরণের মধু পাওয়া যায়। এগুলির স্বাদ এবং ঝাঁঝও বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। মধুর বৈচিত্র্য নির্ভর করে ফুলের নির্যাস এবং পরিবেশের ধরণের ওপর।

সাবধানতা: খুব ছোট শিশুদের মধু খাওয়াবেন না। কারণ, মধুর মধ্যে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা বড়দের ক্ষতি না করলেও শিশুদের ক্ষেত্রে খুবই ক্ষতিকারক। এছাড়াও মধুর মধ্যে যে মিষ্টি থাকে, তা ক্ষতিকারক না হলেও সঠিক পরিমাণে খাওয়াটাই শ্রেয়। কারণ মধুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে। বেশি মাত্রায় খেলে ওজন বাড়তে পারে। আরেকটি বিষয়, খাবার রান্না করার সময় তাতে মধু দিলে কোনও অসুবিধা হয় না। কিন্তু ভুলেও ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপর মধুকে গরম করবেন না। কারণ এমনটা করলে মধু হজম করতে সমস্যা হতে পারে।