ইউএনওদের ১০০ গাড়ি: বেশি দামে কেনার প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের না

শুক্রবার, নভেম্বর ২২, ২০১৯

ঢাকা: নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনার প্রস্তাবে আপত্তি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড তিন বা এর নিচের কর্মকর্তাদের জিপ গাড়ি কেনার জন্য ৫৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ইউএনওদের জিপ গাড়ির দাম ৯৪ লাখ ৬৯ হাজার ধরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

ফলে বেশি দাম দিয়ে জিপ কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অর্থ বিভাগ। প্রতিটি গাড়ির দাম কমিয়ে ৫৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করাসহ কয়েকটি শর্ত দিয়ে প্রস্তাবের জবাব দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ২৭০০ সিসির জিপের দাম দু’ভাবে নির্ধারণ করা হয়। সিএনজি কনভারশন ও সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্সসহ একটি জিপের দাম ৯৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ধরনের জিপ ব্যবহার করতে পারবেন গ্রেড-১ ও ২-এর কর্মকর্তারা। অপরদিকে নিবন্ধন ফি, সিএনজি কনভারশন ও সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ২৭০০ সিসির জিপ কেনার দাম ৫৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এটি মূলত গ্রেড তিন এবং এর নিচের কর্মকর্তাদের জন্য। ইউএনওরা মূলত ৫৭ লাখ টাকা দামের গাড়ি প্রাপ্য।

এ প্রেক্ষাপটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ১০০ জিপ গাড়ির দাম দাঁড়ায় ৫৭ কোটি টাকা। অপরদিকে জনপ্রশাসনের হিসাবে ১০০ গাড়ি বাবদ ৯৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইউএনওদের গাড়ি কেনা বাবদ অতিরিক্ত ৩৭ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, গাড়ির প্রয়োজন থাকতে পারে। কিন্তু ঢাকায় অবস্থানকারী প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেডের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এক কোটি টাকা দামের গাড়ি ব্যবহার করেন না। এ কারণে উপজেলা পর্যায়ে বেশি দামের গাড়ি কেনার যৌক্তিকতা দেখছে না অর্থ মন্ত্রণালয়। এজন্য কয়েকটি শর্ত দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ থেকে দেয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রতিটি গাড়ির দাম ৯৪ লাখ টাকা নয়, গ্রেড অনুযায়ী ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় করতে হবে। এছাড়া ইউএনওদের গাড়ি কেনার আগে অকেজো ঘোষণা সংক্রান্ত বিআরটিএ’র পরিদর্শক দলের অনুমোদন নিয়ে অনুলিপি অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। এছাড়া গাড়ি কনডেম কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তের অনুলিপি ও গাড়িগুলো কনডেম ঘোষণার পর সেগুলো বিক্রির অর্থ চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে অনুলিপিও অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। প্রতিটি গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। ইউএনওদের গাড়ি কেনার জন্য জনপ্রশাসনের প্রস্তাবে বলা হয়, ‘মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের গতিশীলতা আনতে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনা দরকার। এজন্য ৯৪ কোটি ৭৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ক্রয় প্রস্তাবে সম্মতি দেয়ার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।’

জানা গেছে, ইউএনওদের জন্য ২০০৬-০৭ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত ৪৯৩টি জিপ গাড়ি কেনা হয়। এছাড়া সরকারি যানবাহন অধিদফতর তাদের জন্য ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ৪৭টি এবং ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২০৮টিসহ মোট ২৫৫টি গাড়ি কেনে। এসব গাড়ির আয়ুষ্কাল ১১ বছর পার হয়েছে। সরকারি যানবাহন অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি বিধান অনুযায়ী একটি গাড়ির আয়ুষ্কাল ন্যূনতম আট বছর। ইউএনওদের ব্যবহৃত গাড়িগুলোর আয়ুষ্কাল ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে গাড়িগুলো বেশি ব্যবহারের ফলে সেগুলো অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এসব গাড়ি মেরামতে অনেক ব্যয় হচ্ছে। এতে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে গতিশীলতা আনতে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত গাড়িগুলো কেনা প্রয়োজন।

অর্থ সচিবকে পাঠানো সরকারি যানবাহন অধিদফতরের চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কাজের স্বার্থে প্রতিস্থাপক হিসেবে ইউএনওদের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি কেনা দরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিও তাতে সুপারিশ করেছে। গাড়ি কেনার জন্য প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছ থেকে দরপত্র চাওয়া হয়েছে। দরপত্র অনুযায়ী প্রতিটি জিপের দাম পড়বে ৯৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা।