১৫ বছর পর বাজারে পাকিস্তানি পেঁয়াজ

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯

ঢাকা : বাংলাদেশে পণ্য আমদানিতে সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হয় প্রতিবেশি ভারতের ওপর। যদি মাঝেমধ্যে ভারত পণ্য রফতানিতে স্থগিতাদেশ দেয় তাহলে এর বেশ প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের বাজারে।

এবার সেই প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজের ওপর। ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার পর ইতিহাসের রেকর্ড ছাড়ায় পেঁয়াজের দাম। তীব্র গতিতে বেড়ে উঠা পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে মিশর, তুরস্ক ও চীন থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার এই পেঁয়াজ আসার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবারও এই পেঁয়াজ আসেনি।

তবে পেঁয়াজ এসেছে পাকিস্তান থেকে। বুধবার (২১ নভেম্বর) বিমানে করে পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজের প্রথম চালান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর পাকিস্তানি পেঁয়াজ আসলো বাজারে।

পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ৮২ টন পেঁয়াজ টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির কথা ছিলো। তবে বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর শ্যামবাজারের একটি আড়তে নেয়া হয় পাকিস্তানি পেঁয়াজগুলো।

শুক্রবারেই বাজারের বাংলাদেশের খুচরা বাজারে আসবে এই পেঁয়াজ। তাতে কমে আসতে পারে বিদ্যুতের গতিতে বেড়ে ওটা পেঁয়াজের দাম।

এর আগেও ভারত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করেছে। যখনই বন্ধ করেছে তখনই বাংলাদেশের বাজারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেময় বাণিজ্যমন্ত্রী, সচিবরা পাকিস্তানের পেঁয়াজ আসছে বলে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত আর পেঁয়াজ আসেনি। তবে এবার এসেছে।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশে পাকিস্তানের সামনে বাণিজ্য বৃদ্ধির একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সরকার পর্যায়ে আলোচনা করতেও প্রস্তুত চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বাণিজ্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (টিডিএপি) এক কর্মকতা।

সর্বশেষ ২০০৫ সালে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ বাণিজ্য কমিশনের (জেইসি) সবশেষ বৈঠক হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময় কথা উঠলেও আলোর মুখ দেখেনি।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, করাচি-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রোশান এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে বাংলাদেশের তাশো এন্টারপ্রাইজের মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি-রফতানি বিষয়ক একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তি মোতাবেক প্রতি টন চালান ৬০০ ডলার মূল্যে পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করবে বাংলাদেশ।