গণতন্ত্রের বাংলাদেশ এখন ‘স্বৈরতান্ত্রিক জাতিতে রূপান্তরিত’: দুদু

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

ঢাকা : আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের জাতি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জাতি, অধিকার আদায়ের জাতি। অথচ আওয়ামী সরকারের দুঃশাসন দেশটাকে এখন সারা বিশ্বের চোখে স্বৈরতান্ত্রিক দেশ স্বেরতান্ত্রিক জাতি রূপে প্রতিষ্ঠা করেছে। মুক্তিযুদ্ধ আর গণতন্ত্রের এই মহান জাতিকে এখন সারাবিশ্বে স্বৈরতান্ত্রিক জাতি হিসেবে রূপান্তরিত করেছে বর্তমান সরকার।’

তিনি বলেন, ‘গোটা দেশ গোটা দেশের মানুষ এখন দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। কোথাও মানুষের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকারটুকুও অবশিষ্ট নেই। এই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশে নৈরাজ্য বাড়ে, দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, গুম-খুন আর ধর্ষণের মহোৎসব চলে দেশে।’

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল আয়োজিত ‘পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূণল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে’ এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘পেঁয়াজসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এই জিনিসগুলোর যে দাম বেড়েছে এই দামটা কিন্তু কৃষকরা পাচ্ছে না। এ সমস্ত টাকা একটি গোষ্ঠী, একটি সিন্ডিকেট যারা সরকারের সাথে সরাসরি যুক্ত তারা লুটেপুটে নিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না।’

সাবেক ছাত্রদলের এই সভাপতি বলেন, ‘গত ১২ বছর ধরে দেশের জনগণ দুর্বিষহ যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এদেশের জনগণকে ১৬ টাকা সের চাল যে নেত্রী খাইয়েছেন সেই নেত্রীকে বর্তমান জালিম সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে আইনের তোয়াক্কা না করে ও বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে জেলে আটক করে রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন দেশের পুলিশ, প্রশাসন, আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে অপবাদ দিচ্ছি। বলছি, তারা লুটপাটের সাথে জড়িত। তারাই স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু কেন আমরা তাদেরকে অপবাদ দিই। আসল সত্যিটা হচ্ছে- সরকার পুলিশ, প্রশাসন, আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে

বাধ্য করেছে, তাদের কথা ও চাওয়া মতো কাজ করতে। সেজন্যই চাকরি বাঁচানোর তাগিদে পুলিশ-প্রশাসন এখন সরকারের কথা শুনতে বাধ্য হচ্ছে। তাই আমরা তারা এই অপবাদের শিকার হচ্ছে।’

শামসুজ্জামান দুদু আরও বলেন, ‘সৈরতন্ত্র গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। বাংলাদেশে এখন ন্যূনতম গণতন্ত্র নেই। যদি দেশের জনগণ, বিরোধী দল কিংবা মিডিয়া এই সরকারের বিরুদ্ধে সত্যি কথা বলে তাহলে সরকার হামলা-মামলা দিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করে। সুতরাং এ দেশে আবারও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে না পারলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না।’

এ সময় তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন-সংগ্রামকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ‌কৃষকদ‌লের সদস্য স‌চিব কৃ‌ষি‌বিদ হাসান জা‌বিদ তু‌হিন, শিশুবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য তক‌দির হো‌সেন মো. জ‌সিম, আলহাজ মোয়াজ্জেম হোসেন, নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড না‌সির হায়দার, মাইনুল ইসলাম, মো. আলম হো‌সেন, লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, এম জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর রা‌জি ও শ‌ফিকুল ইসলাম প্রমুখ।