কমছে পেঁয়াজের দাম

সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

ঢাকা : পেঁয়াজ যেন অপ্রতিরোধ্য। দফায় দফায় দাম বেড়ে রাজধানীর কাঁচাবাজারে এখন সব থেকে বেশি দামের পণ্যের তালিকায় সবার ওপরে স্থান করে নিয়েছে পেঁয়াজ। সপ্তাহের ব্যবধানে তিন দফায় কেজিতে ১২০ টাকা বেড়ে গত শনিবার দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা।

তবে রোববার ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪০ টাকা। দেশি হাইব্রিড পেঁয়াজ ২০০ এবং মিসরের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কিন্তু রাজধানীর খুচরা বাজারে এখনও দেশি পেঁয়াজ কিনতে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এ ছাড়া মিয়ানমারের পেঁয়াজও ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মিসর, তুরস্ক ও চীনের পেঁয়াজ ২২০ টাকায় বিক্রি হয়।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, চড়া দামে কেনা পেঁয়াজ লোকসান দিয়ে বিক্রি করবেন না। কম দামে পেঁয়াজ আনা সম্ভব হলে তখন কম দামে বিক্রি করবেন। তবে বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ আরও বাড়ছে। এই পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে খুচরায় দাম কমবে বলে জানান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

এদিকে উড়োজাহাজে আমদানির ঘোষণায় বাজারে অস্থিরতাও কিছুটা কমেছে। পেঁয়াজ আসার খবরে ক্রেতারা অনেকটা আশ্বস্ত হয়ে কেনা কমিয়ে দিয়েছেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, চাহিদা কম থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে থাকা পেঁয়াজ এখন দ্রুত বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন।

রোববার ফরিদপুর, মাদারীপুর ও পাবনাসহ কয়েকটি জেলার বাজারে নতুন পেঁয়াজ এসেছে, এমনকি ঢাকায় পেঁয়াজের পাইকারি বাজার শ্যামবাজারেও তা চলে এসেছে। এদিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে দেওয়া এবং অনেকে আপাতত বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই দুইয়ের প্রভাবে রোববার ঢাকায় পেঁয়াজের দাম না বেড়ে কিছুটা কমেছে।

শ্যামবাজারের পাইকারি বিক্রেতা ইদ্রিস আলী মধু বলেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে এসেছে। দেশি পুরান পেঁয়াজ ১৮০ টাকা থেকে ২০০, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৬০ টাকা থেকে ১৮০ এবং মিশরীয় পেঁয়াজ ১৬০ টাকায় প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে। কিছু কিছু আড়তে মুড়িকাটা পেঁয়াজ এসেছে, যার দাম ছিল প্রতিকেজি ১৩০ টাকা থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে।

মিরপুরের শাহ আলী মার্কেটের আড়ৎ মালিকদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, পেঁয়াজের দাম অনেক কমে গেছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। আগামীকাল দাম আরেক ধাপে কমে যাবে।

কী কারণে দাম কমতে শুরু করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম কারণ হচ্ছে বেচা-বিক্রি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। দ্বিতীয়ত, কিছু মুড়িকাটা পেঁয়াজ এসেছে। এসব কারণে দাম কিছুটা কমেছে।