চালের দাম যেন পিয়াজের মতো না হয় : খাদ্যমন্ত্রী

রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

ঢাকা : চাল নিয়ে কেলেঙ্কারি করতে দেয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। বাজারে চালের মূল্য বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এক সভায় চালকল মালিকদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।  রোববার রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে খাদ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি চালের দাম বৃদ্ধি। কিন্তু আমি বুঝি না, আমাদের এখন সর্বকালের সর্ববৃহৎ সরকারি (খাদ্যশস্য) মজুত। ওএমএস ডিলাররা এখন চাল নেয় না। বাজার কন্ট্রোলের জন্য তো সরকার ওএমএস ডিলার নিয়োগ করেছে। সরকারের মজুত থেকেই ডিলারদের চাল দিয়ে বাজার কন্ট্রোল করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু ওএমএস ডিলাররা নাকি ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করতে পারে না। তাই ওএমএস ডিলাররা চাল নিতে চায় না। এর অর্থ এই নয় যে আমাদের গুদামে খারাপ চাল আছে।’ ‘আমাদের বোরো প্রকিউরমেন্টের চাল রয়েছে এবং ভালো চাল রয়েছে। এই চাল ৩০ টাকা দরে কিনতে চায় না। কিন্তু পত্র-পত্রিকায় এসেছে চালের দাম বেড়েছে।’

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও তো বাজার মনিটরিং করি। আমরা বাজার মনিটরিংয়ে দেখেছি ফাইন রাইসের (চিকন চাল) দাম কিছুটা বেড়েছে।’ ‘ইতোপূর্বে আপনারা (চালকল মালিক) যখন রফতানির কথা বলেছেন। আমাদের ক্যাবিনেটে যখন রফতানির কথাটা উঠে, হ্যাঁ রফতানি তো করতে হবে রফতানি না করলে চলবে কীভাবে? আমি তখন প্রথম বলেছিলাম, রফতানি যদি করতে হয় মোটা চাল সাবসিডি দিয়ে করতে হবে। মোটা চাল বিক্রির বাজার খুঁজতে হবে।’

এখন রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে গণভবন পর্যন্ত সবাই চিকন চালের ভাত খায় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘(রফতানি করলে) এটার (চিকন চাল) উপর চাপ পড়বে আর রফতানি হলে তো ফাইন রাইস রফতানি হবে, মোটা চাল রফতানি হবে না। তাই এ চাল রফতানির জন্য আমার তরফ থেকে আমি অনুমোদন দিতে পারব না। দায়-দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এজন্য আমাকে অনেকে খারাপও মনে করেছে যে আপনি রফতানি করতে দিলেন না। ঠিক আছে রফতানি হোক কিন্তু রফতানি করতে গিয়ে যদি চালের দাম বাড়ে?’

‘আমাদের তো এই মন্ত্রণালয়ের বিপদ, যদি চালের দাম ২ টাকা কমে, তবে কৃষক দাম পেল না বলে গুষ্টি উদ্ধার আমাদের। দাম ২ টাকা যদি বাড়ে তাইলে গুষ্টি উদ্ধার আমাদের।’খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজ নিয়ে একটা অযথা কেলেঙ্কারি। এজন্যই আপনাদের (চালকল মালিক) আমাদের ডাকা। যাতে চাল নিয়ে কোনো কেলেঙ্কারি আমাদের না হয়। এটা নিয়ে কেলেঙ্কারি করতে দেওয়া যাবে না। আপনাদের সুবিধা-অসুবিধা আমরা শুনব।’

তিনি বলেন, ‘তারপরও যতই অসুবিধা হোক না কেন বাজার সহনীয় পর্যায়ে কন্ট্রোলের মধ্যে রাখতে হবে, এটাই হলো কথা। মিল মালিক, কৃষক, অধিদফতর, মন্ত্রণালয়- এরা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।’ ‘পাশাপাশি আমাদের একটা নির্দেশনা ছিল- প্রকৃত মিল মালিকরা যাতে বরাদ্দ পায়। আমার মনে হয় এটা সারা দেশে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, সে অনুযায়ী সার্ভে করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে কোনো অনিয়মের তথ্য থাকলে তাও জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। মাঠ পর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের এই তালিকা ওয়েবসাইটে এবং সাংবাদিকদের সরবরাহ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো অভিযোগ থাকলে আগেই সাংবাদিকরা অভিযোগ দিক। পরে যেন না বলে যে, বন্ধ মিলকে বা অবৈধ মিলকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বললে আগেই বলুক।’