মহিলা দলের দুই গ্রুপের হাতাহাতি, লাঞ্ছিত সুলতানা আহমেদ

শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

ঢাকা: জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস গ্রুপের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স হলে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সুলতানা আহমেদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহিলা দলের একাধিক নেত্রী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে।

শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে সাংগঠনিক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ইউনিটের নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শুরুর আগে সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। তিনি সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে উদ্দেশ করে বলেন, কার সভাপতিত্বে সভা হচ্ছে? কিসের সভা হচ্ছে? সভা কে পরিচালনা করছে? একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় আফরোজা গ্রুপের নেত্রী সুরাইয়া সুলতানা গ্রুপের মহানগর উত্তরের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফার মেয়ে আরজুকে থাপ্পর দেয়। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষ স্থান ত্যাগ করে।

জানা গেছে, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানকে সাধারণ সম্পাদক বানাতে চান সভাপতি আফরোজা আব্বাস। এটা নিয়েই মূলত সুলতানা আহমেদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চলছে। এ ছাড়া মহানগরের বিভিন্ন কমিটি দেয়া নিয়েও দুজনের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আকতারসহ মহানগরের বিভিন্ন থানার নেত্রীরা আফরোজা আব্বাসের পক্ষে থাকলেও মহানগর উত্তর সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক আমেনা, সহ-সভাপতি কাউন্সিলর মেহেরুন্নেসা, যুগ্ম সম্পাদক তামান্না, দক্ষিণের সভাপতি রাজিয়া আলিম, সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার সুলতানা আহমেদের পক্ষে রয়েছেন।

এসব বিষয়ে কথার জন্য আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ ও হেলেন জেরিন খানের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা কেউ রিসিভ করেননি।