বেসিক ও রূপালী ব্যাংকে শতকোটি টাকার ঘাপলা

শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

ঢাকা : রাষ্ট্র মালিকানাধিন রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকে শতকোটি টাকার ঘাপলা করেছেন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। ঋণ গ্রহীতা ও ব্যাংকের যোগসাজশে প্রকল্পের নামে ঋণ উত্তোলন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করাসহ নানা অনিয়মের মাধমে প্রায় ৯৭ কোটি ৯৫ লাখ ক্ষতি করা হয়েছে ব্যাংক দুটোর।

জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার সরকারী হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৭তম বৈঠকে এই চিত্র তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেলের বার্ষিক অডিট রিপোর্টে। কমিটি এই বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কমিটির সভাপতি মো. রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, মো. আব্দুস শহীদ, মো. আফছারুল আমীন, মো. শহীদুজ্জামান সরকার, মনজুর হোসেন, আহসানুল ইসলাম (টিটু), ওয়াসিকা আয়েশা খান ও মো. জাহিদুর রহমান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেড ২০১২-১৩ অর্থ বছরের হিসাব সম্পর্কিতর্ ২০১৩-১৪এ অন্তর্ভুক্ত অডিট আপত্তির উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রাহকের পূর্বের দায়-দেনার পরিস্থিতি সন্তোষজনক না হওয়া সত্ত্বেও পুনরায় চলতি মূলধন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য ঋণ সুবিধা প্রদান করায় ব্যাংকের ক্ষতি ৪ হাজার ৮৭লাখ টাকা, ক্রয়কৃত আইবিপি বা লোকাল বিলের অনাদায়ী অর্থ কু-ঋণে পরিণত হওয়ায় ক্ষতি ৩৮৩ দশমিক ০১লাখ টাকা, গ্রাহক নির্বাচন সঠিক না হওয়ায় বারবার মালিকানা হস্তান্তর, অপর্যাপ্ত জামানতের ভিত্তিতে ঋণ বিতরণ এবং ফোর্সড লোন ও পিসি ঋণ টার্ম লোনের সাথে একীভূত করে পুনঃতফসিল করা সত্ত্বেও এর মেয়াদী ঋণের ৫৭৩ দশমিক ৯৫ লাখ টাকা অনাদায়, গ্রাহকের অনুকুলে ক্রয়কৃত রপ্তানি বিলের (ইনল্যান্ড) অর্থ আদায়ে ব্যর্থতায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন ৪০ দশমিক ৪৫লাখ টাকা, একই ব্যক্তিকে একাধিক সিসি (হাইপো) ঋণ প্রদান করলেও ঋণের উদ্দেশ্য অনুসারে ঋণের ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ায় তথা বর্তমানে স্টকে কোন মালামাল না পাওয়ায় আদায়ে ঝুঁকি এবং ব্যাংকের ক্ষতি ২২ দশমিক ৯৬লাখ টাকা, ঋণ গ্রহীতা ও ব্যাংকের যোগসাজশে ডেইরি ফার্ম নির্মাণ না করে ঋণ উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ করায় ব্যাংকের ৫৫ দশ

মিক ২৩লাখ টাকা ক্ষতি, এলটিআর ঋণের শর্ত মোতাবেক অর্থ পরিশোধ না করা সত্ত্বেও পুনঃপুন পরিশোধ সীমা বৃদ্ধি, অনিয়মিতভাবে ওভারড্রাফট ঋণ মঞ্জুর ও ওডি হিসাব হতে এলটিআর ঋণ সমন্বয় এবং সাশ্রয়ী সুদ হারের সুবিধা ভোগ করা সত্ত্বেও সীমাতিরিক্ত দায় সৃষ্ট হওয়ায় ৫ হাজার ২০৬ দশমিক ১১লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে ৭টি আপত্তির বিষয়ে প্রশ্ন-উত্তর ও জেরা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ৩টি আপত্তি নিষ্পত্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। অনিষ্পন্ন আপত্তিসমূহের ক্ষেত্রে অনাদায়ী অর্থ আদায় এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া, নিবন্ধিত চাটার্ড একাউন্টেন্ট ফার্ম কর্তৃক রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেড-এর সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বছরের স্থিতিপত্র, আয়-ব্যয় হিসাব ও লাভ-লোকসান হিসাব সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠকে পর্যালোচনা হয়।