বিএনপির সিদ্ধান্ত আসে ‘সমুদ্রের ওপার থেকে’: তথ্যমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

ঢাকা : বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগত টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আসলে বিএনপি নেতারা বিএনপিকে নিয়ে প্রচণ্ড হতাশ। সেখানে নিজের মতপ্রকাশের কোনও স্বাধীনতা নেই।

এমনকি ফখরুল সাহেবেরও মতপ্রকাশের কোনও স্বাধীনতা নেই। তারা নিজেরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সিদ্ধান্ত আসে সমুদ্রের ওপার থেকে। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই। এ কারণে আজকে বিএনপির এই দৈন্যদশা।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের বিরুদ্ধে রাজনীতি করলে বিএনপির পরিধি ছোট হতে হতে একসময় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। জনবিরোধী রাজনীতি করে বিএনপি এখন জিম্মি হয়ে গেছে।’

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ স্মৃতি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিএনপিকে বাস্তবতা বিবর্জিত রাজনীতি বাদ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাস্তবতা বিবর্জিত রাজনীতি, জনগণের প্রতিপক্ষমূলক রাজনীতি, জনগণের বিরুদ্ধে রাজনীতি, জনগণের ওপর হামলা পরিচালনা করার যে রাজনীতি, জনগণকে জিম্মি করার যে রাজনীতি, এটি করতে গিয়ে তাদের দলটি (বিএনপি) এখন জিম্মি হয়ে গেছে। এই রাজনীতি পরিহার না করলে বিএনপির পরিধি দিনে দিনে ছোট হবে। একসময় দলটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়ুক- আমরা সেটি চাই না। আমরা চাই, বিএনপি একটি শক্তিশালী দল হিসেবে টিকে থাকুক এবং জনগণের জন্য রাজনীতি করুক। কারণ দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে, শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। সেজন্যই আমরা চাই বিএনপি আরও শক্তিশালী হোক।’

‘আওয়ামী লীগ থেকে অনেকেই বিএনপিতে চলে যাবে’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব বলেছেন- ভবিষ্যতে নাকি আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে লোক চলে যাবে। আসলে তাদের দল থেকে যেভাবে ‘দলত্যাগ’ শুরু হয়েছে, এটিকে আড়াল করার জন্য তিনি এধরনের বক্তব্য দিয়ে আত্মতুষ্টি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তার কথা শুনে অনেকেই বলছেন- মির্জা ফখরুল, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো কথা বলছেন। কারণ গয়েশ্বর বাবু অনেক সময় বেফাঁস ও অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেন। তিনি গয়েশ্বরের মতো হয়ে গেলেন নাকি, এই প্রশ্ন অনেকেই এখন করছে।’

এ প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি থেকে অনেকেই দল ত্যাগ করেছে। আরও অনেকে হয়তো করবে। সুতরাং এসব কথা বলে আত্মতুষ্টি পাওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের নেতাকর্মীদের দলত্যাগ তারা ঠেকাতে পারবে না।’

আওয়ামী লীগে অনেক বিএনপি নেতা যোগ দিতে চায় দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা যে কাউকে আমাদের দলে নিতে রাজি না। অবশ্যই আওয়ামী লীগ একটি গণসংগঠন, এখানে অন্য দল থেকে মানুষ আসতে পারবে না, সেরকম নয়। কিন্তু বিএনপির চিহ্নিত লোকজনকে আমাদের দলে নেয়ার প্রয়োজন নাই। তাদের দলত্যাগ করে এসে আমাদের দলে যোগ দিতে চাইলেও আমরা নেবো না।’

স্মরণসভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।