নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরেছে হতভাগ্য ৮৬ বাংলাদেশি

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

ঢাকা : অনেকেই বাড়ির পাশের এক খণ্ড জমি বিক্রি করে, কেউবা কষ্টে জমানো টাকা, অথবা ধারদেনা কিংবা স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে নতুন জীবন গড়ার এক বুক স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্নে গুড়েবালি পড়লো। সবকিছু খুইয়ে সৌদি পাড়ি জমানো এই প্রবাসীদের অনেকেই এখন মাথায় হাত।

এরকমই ৮৬ জন হতভাগ্য বাংলাদেশি প্রবাসী বুধবার রাত ১১টার দিকে সৌদি এয়ারলাইন্সের এই বিমানে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। যাদের চোখেমুখে কান্নার ছাপ, সব হারিয়ে নিঃস্ব এই মানুষগুলো নিজেরাও জানেনা তাদের ভবিষ্যত কি?

রাত সোয়া ১১টার দিকে বিমানবন্দরে নামলেও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে রাত পৌনে ১২টা থেকে তারা এক এক করে বিমানবন্দর থেকে বের হতে থাকে।

হতভাগ্য এইসব প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রত্যেকেই প্রায় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কারোর আকামা ছিল, কারোর আকামা হয়নি। সৌদি পা রাখার পর রাস্তা থেকেই তাদের অনেককে পুলিশ আটক করে কারাগারে পুরেছিল। কিছুদিন কারাবাসের পর অবশেষে সব হারিয়ে ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরেছেন এই ৮৬ বাংলাদেশি।

বুধবার রাতে এই প্রবাসী বাংলাদেশিরা যখন বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছিলেন তখন দু-একজনের স্বজন ছাড়া আর কারও স্বজন-নিকটাত্মীয়দের তাদের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়নি। সাধারণত অন্যান্য সময় প্রবাসীদের ফেরার খবরে বিমানবন্দরের সামনে স্বজনদের ভিড় জমে। কিন্তু বুধবার রাতের চিত্র ছিল ভিন্ন।

সৌদির জেল থেকে অনেককে সরাসরি বিমানে তুলে দেয়া হয়েছিল। তাই ঢাকায় বিমানবন্দরে নামার পর অনেককেই ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছিল। এসময় ব্রাক মাইগ্রেশনের এক প্যাকেট খাবার ও পানি পেয়ে পাশে বসেই খেয়ে নেন তারা। অনেকেই মধ্যরাত বলে ভোরের অপেক্ষায় বিমানবন্দরেই রাত কাটান।

সবারই স্বপ্ন ছিল সৌদি আরবে গিয়ে উপার্জন করে পরিবারের অভাব দূর করবেন। স্ত্রী-সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাবেন। ভালোভাবে বেঁচে থাকবেন। কিন্তু আজ সবার চোখেই ঘোর অমাননিশা।

এ ব্যাপারে বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর সৌদি থেকে ২০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক দেশে ফেরত এসেছে। যাদের বেশিরভাগেরই আকামা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে জেল খাটায় ও দেশে ফেরত পাঠায়।