গর্ভজাত সন্তান বিক্রি করে ধর্ষণের ক্ষতিপূরণ নেওয়ার পরামর্শ

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিচারকের আসনে বসা একদল বিচারক অদ্ভুত রায় দিল এক কিশোরীর বিরুদ্ধে। ধর্ষণের শিকার হওয়া এক কিশোরী গর্ভবতী হয়ে গ্রামের পঞ্চায়েতদের কাছে বিচার দিলে তারা উল্টো তাকেই দোষারোপ করে ভূমিষ্ট সন্তান বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ নিতে বলেন।

অমানবিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিহারের মুজাফফর জেলার কাটরা গ্রামে। গ্রামের একটি মসজিদের মাওলানা মকবুল। থাকতেন মসজিদেই। তার জন্য স্থানীয় এক দিনমজুরের ১৫ বছরের কিশোরী মেয়েকে দিয়ে খাবার পাঠাত স্থানীয়রা।

এভাবেই খাবার দিয়ে আসতে ঐ মাওলানার লালসার শিকার হয় মেয়েটি। একদিন মিষ্টির সাথে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন মকবুল। এরপর এ ঘটনা কাউকে জানালে খুন করার হুমকি দিয়ে টানা দুই মাস ধর্ষণ করেন তিনি। এদিকে, এ ঘটনার কথা জানতে পারেন শোয়েব নামে ওই গ্রামের এক ইলেকট্রিশিয়ান। পরে শোয়েবও মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এরপর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাওয়া ওই কিশোরী সন্তান প্রসব করেন।

মেয়েটি স্থানীয় মাদ্রাসার অধীনে থাকা পঞ্চায়েত কমিটির কাছে বিচার চায়। কিন্তু ন্যায় বিচার দেওয়ার বদলে উল্টো ওই কিশোরীকেই অপদস্থ করে পঞ্চায়েত কমিটি। ধর্ষণের জন্য তাকেই দোষী সাব্যস্ত করে পঞ্চায়েত কমিটি। এখানেই থেমে থাকেনি পঞ্চায়েত কমিটি, নিজের গর্ভজাত সন্তানকে বিক্রি করে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ক্ষতিপূরণ নিতে বলেন তারা। পঞ্চায়েত কমিটির এমন রায়ে হতবাক হয়ে যায় ওই তরুণী ও তার পরিবার।

পরে তারা বাধ্য হয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন। এতে দুই ধর্ষকের পাশাপাশি পঞ্চায়েত সদস্যদেরও অভিযুক্ত করা হয়। মুজাফফরপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(পূর্ব) অমিতেশ কুমারের নেতৃত্বে একটি দল অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন। তাদের ছবি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টারও লাগানো হয়েছে।