স্বামীর লাশ দাফন করে ফেরার পথে ট্রেন দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যু

বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

মৌলভীবাজার: স্বামী মুসলিম মিয়ার দাফন শেষে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদা বেগম (৪০) নামে এক নারী। কিন্তু গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাহেদাসহ ১৬ জন নিহত হয়।
জানা যায়, স্বামী মুসলিম মিয়া কাজ করতেন চট্রগ্রামের একটি জাহাজে। গত ৭ নভেম্বরের মুসলিম মিয়া এক দুর্ঘটনায় মারা যান সেখানেই৷ জাহেদা বেগম তার দুই সন্তান নিয়ে চট্রগ্রাম থেকে গত শনিবার এসেছিলেন শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোন ইউনিয়নের গাজীপুরে শ্বশুর বাড়িতে স্বামীর লাশ দাফন করতে। স্বামীর লাশ দাফন করা শেষে সোমবার রাতে শ্রীমঙ্গল থেকে আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেসে আবার চট্রগ্রাম ফিরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথে কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যান জাহেদা বেগম। একই ঘটনায় জাহেদা খাতুনের দুই সন্তান ইমন (১৫) ও সুমি (১০) গুরুতর আহত হয়েছেন ৷
সেখানে বিলাপ করছেন জাহেদা বেগমের আত্মীয়স্বজনরা। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় বাসিন্দা টিটু মিয়া জানান, গত শনিবার আমরা জাহেদার স্বামী মুসলিম মিয়াকে দাফন করেছি। সোমবার কুলখানি শেষ করে জাহেদা তার বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষা দেওয়ানোর জন্য চট্রগ্রাম নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পথেই ট্রেন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।
জাহেদা বেগমের ননদ জোৎস্না বেগম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার এক দুর্ঘটনায় আমার ভাইকে হারিয়েছি। তার পাঁচ দিনের মাথায় সোমবার রাতে আমরা ভাবিকেও হারিযে় ফেললাম। আমার ভাইয়ের ছেলে-মেয়ে এখন এতিম হয়ে গেল।’
সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে কসবার মন্দবাগ নামক স্থানে তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৬ জন যাত্রী।