বার্সার বেহাল দশায় চিন্তিত সমর্থকগোষ্ঠী!

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক : চলতি মৌসুমের এখনও অর্ধেক খেলা বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার মূল স্কোয়াডের অর্ধেক ফুটবলার ইনজুরির কবলে। গেল শনিবার ( ৯ নভেম্বর) রাতে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ১৩ তম খেলোয়াড় হিসেবে নতুন করে ইনজুরির শিবিরে যোগ দিলেন ক্লাবের রাইটব্যাক নেলসন সেমেদো। ইনজুরির শুরুটা হয়েছিল নেতোকে দিয়ে। প্রাক-মৌসুমে আঙুল ভেঙ্গে ছিটকে পড়েন দল থেকে।

ফলে লা লিগার শুরু থেকেই দলের বাইরে আছেন রক্ষণভাগের এই প্রহরী। চোটে আছেন তোদিবো। মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচ মিস করার পর দলে ফিরেই সেভিয়ার বিপক্ষে আবার চোটের কবলে পড়েন। ইনজুরির কারণে ইতিমধ্যে সাত ম্যাচ মিস করেছেন ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতি। হাঁটুর ব্যথা কাটিয়ে দলে ফিরলেও কোনো ম্যাচেই পুরোটা সময় খেলতে পারছেন না তিনি। বার্সা বেশি ঝামেলায় পড়েছে লেফটব্যাক জর্দি আলবার ইনজুরিতে। তার স্থান পূরণ করার মতো এখনও কোনো বিকল্প পায়নি বার্সা।

লেভান্তের বিপক্ষে হোঁচট খাওয়া ম্যাচে আচমকা মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার আর্থার মেলো। ম্যাচ শেষে কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে জানান, চোটের কারণে মাঠ থেকে উঠে আসেন তিনি। এইবারের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে তুলে নিতে হয় মাঝমাঠের কারিগর সার্জিও রবার্তোকে। লিগামেন্ট ইনজুরির কারণে স্লাভিয়া প্রাগের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। ফরোয়ার্ড জুনিয়র ফিরপোরও একই দশা। ওসাসুনার বিপক্ষে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন তিনি। এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন এ খেলোয়াড়।

এছাড়াও ইনজুরি আক্রান্ত খেলোয়াড়ের তালিকায় রয়েছেন স্ট্রাইকার উসমান ডেম্বেলে। চোট আর নানা বিতর্কের কারণে প্রথম ৫ ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। পরে ফিরলেও গেটাফের বিপক্ষে ম্যাচে আবারও ইনজুরিতে পড়েন এ ফরাসি ফরোয়ার্ড। চোটের কবল থেকে রেহাই পাননি লিওনেল মেসি নিজেও। চোটের কারণে মৌসুমের প্রথম ৫ ম্যাচ মিস করেছেন। পরে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ফিরলেও ৪৫ মিনিটের বেশি খেলতে পারেননি বার্সার এই ক্ষুদে জাদুকর। তবে সুস্থ নন কাফ ইনজুরিতে ভুগতে থাকা গোল মেশিন লুইস সুয়ারেজ। অ্যাথলেটিক বিলবাও ও লেভান্তের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। পরে আরও ৩ ম্যাচ মিস করেছেন।

শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েই হইচই ফেলে দেন উদীয়মান গোলস্কোরার আনসু ফাতি। তবে ইনজুরি থামিয়ে দিয়েছে তার গতি। এ ছাড়া ইনজুরিতে আছেন আরেক বার্সা খেলোয়াড় কার্লোস পেরেজ। এমন অবস্থায় মাঠের খেলায় নিজেদের জাত ঠিকমতো চেনাতে পারছেনা ভালভার্দের শিষ্যরা। সামনে চ্যাম্পিয়নস লীগের মতো বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরা খেলোয়াড়দের ছাড়া কিভাবে ভালো করবে বার্সা, এমন প্রশ্ন যেন বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে শতকোটি বার্সা সমর্থকের হৃদয়ে।