ট্রেন দুর্ঘটনা: গুরুতর আহত ১০ জনকে পাঠানো হলো ঢাকায়

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত সোবহানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামীউদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন হবিগঞ্জের সদর উপজেলার উত্তর শিমূলী গ্রামের কাউসার (৩২)। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর আহত কাউসারকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের ১৬ নম্বর বেডে আছেন তিনি।

দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ‘ঝ’ বগির যাত্রী ছিলেন উদয়ন এক্সপ্রেসের আরেক যাত্রী জাহাঙ্গীর মাল। দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় ট্রেন থেকে বের হয়ে আসার পর স্থানীয়রা তাকেসহ আরও কয়েকজনকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লা নিয়ে আসে। এর আগে সকালে একে একে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় আহত ১৩ যাত্রীকে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিব জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভোরে কে বা কারা ফোন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার খবর জানায়। এসময় দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন কমপক্ষে ৩০ জনের অধিক চিকিৎসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে প্রথমে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে গুরুতর আহত অবস্থায় একজন পুরুষকে নিয়ে। এরপর ৭টা পর্যন্ত মোট ১৩ আহত যাত্রীকে নিয়ে আসা হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। চিকিৎসক রাজিব জানান, এখানে নিয়ে আসা যাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হওয়া।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে আসার পরপরই দ্রুত তাদের মধ্যে ১০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন-কুমিল্লার সুয়াগাজী এলাকার রেজায়ুল করিম, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সেনেল, চাঁদপুরের হাসান, রোজিনা, জুবায়ের, রোজিনা, হবিগঞ্জের মুক্তা, সুমন, নাসিমা ও ফিরোজা।

এছাড়া হবিগঞ্জের কাউসার, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সোবহান ও চাঁদপুরের হাইমচরের জাহাঙ্গীর বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসাধীন সোবহান জানান, তিনি তার শ্যালক সফিক মিয়াকে নিয়ে শায়েস্তগঞ্জ থেকে উদয়ন এক্সপ্রেসের ‘ঞ’ বগিতে উঠেন। দুর্ঘটনার কিছু সময় আগে তাকে রেখে তার শ্যালক সফিক দুই বগি সামনে চলে আসেন। এরপর সোবহানকে জানালা দিয়ে কোনো রকমে বের করা হয়। এসময় তারা মানুষের প্রাণ বাঁচানোর আহাজারিতে ভয় পেয়ে যান।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নজরুল ইসলাম জরুরী বিভাগে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলে সব চিকিৎসা ব্যয় বহনের আশ্বাসসহ চিকিৎসকদের সহযোগিতা কামনা করেন। এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা রেডক্রিসেন্ট থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ফোন করে রক্তের প্রয়োজনীয়তা চেয়ে তথ্য জানতে চায়। কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কাউসার, জাহাঙ্গীর ও সোবহান জানান, তাদের পরিবারের সদস্যরা কুমিল্লায় আসছেন।