খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯

ঢাকা : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় মিছিল নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

মিছিল শেষে এক পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজভী আহমেদ বলেন, মিডনাইট নির্বাচনের অবৈধ সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণভাবে গায়ের জোরে বন্দি করে রেখেছে। বন্দি করার মধ্য দিয়ে তারা শুধুমাত্র দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রীকেই বন্দি করে রাখেনি, বরং তারা গোটা দেশ, গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকেও এক শ্বাসরুদ্ধকর বন্দীশালায় আটকে রেখেছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র ফিরবে এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিরাপদ হবে, দেশের মানুষ নিরাপত্তা ফিরে পাবে। তাই দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আমাদের আর বসে থাকলে চলবে না, জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

‘দেশনেত্রী বর্তমানে ভীষণ অসুস্থ, তিনি চলাফেলা করতে পারছেন না, নিজ হাতে খেতে পারছেন না। এমতাবস্থায় সরকার প্রধানকে বলবো-প্রতিহিংসার রাজনীতি ভুলে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। নইলে জনগণের তীব্র ক্ষোভে আপনার মসনদ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, স্বৈরাচারের কুৎসিত আত্মা দিয়ে তৈরী জাতীয় পার্টি তৈরী বলেই মশিউর রহমান রাঙ্গাদের মতো রাজনৈতিক ‘ভবঘুরেরা’ গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গকারী নুর হোসেনের মতো শহীদদের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য কথা বলতে পারে। এরা লুটপাটের আদর্শে উদ্বুদ্ধ গণতন্ত্রের শত্রু বলেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ নুর হোসেনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে পারে। সেজন্য তারা গণতন্ত্র হত্যাকারী আরেকটি শক্তি বর্তমান হানাদার শাসকদের সাথে পরাজিত স্বৈরাচার হাত মিলিয়ে গণতন্ত্র এবং সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দুই স্বৈরাচার এখনও গণতান্ত্রিক প্রথা-প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য গণতান্ত্রিক শক্তিকে গুম ও খুনের মাধ্যমে বিভিষিকা তৈরী করে রেখেছে। অথচ শহীদ নুর হোসেন আওয়ামী লীগেরই কর্মী ছিলেন। কিন্তু নির্লজ্জভাবে ’৯০ এর পরাজিত স্বৈরাচারের ‘পথকলিদের’ সাথে জোট করে নুর হোসেনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে গণতন্ত্রকে দেশের মাটি থেকে উচ্ছেদ করেছে।

তিনি বলেন, হেনস্তা ও অপমানের ভয়ে নাগরিক সমাজ এখন স্বাধীন মত প্রকাশের সাহস হারিয়ে ফেলেছে। এই দুঃসহ অবস্থার মধ্যেও অবৈধ সরকারের পক্ষে একদল উচ্ছিষ্টভোগী কিছু লোক গুণকীর্ত্তনে মানুষ এখন অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দলীয়করণ, ভীতিপ্রদর্শন ও নানা অপকৌশলের মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আজ প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। সারাদেশে প্রকাশ্য সন্ত্রাস করছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। তাদের কোনো বিচার হয়না। এই দুঃসহ অবস্থা থেকে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি চায়। তারা তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়। মানুষের সেই আশা-আকাঙক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করতেই শাসকগোষ্ঠী দেশনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করে রেখেছে।

‘কেবল নিজেদের দলীয় স্বার্থে ও সুবিধার্থে সংবিধান বদল করে গায়ের জোরে যারা এখন ক্ষমতায় টিকে আছে তারা জনগণের ভোটে আসেনি। দেশের মানুষ তাদের নির্বাচিত করেনি। তাদের দেশ পরিচালনার প্রতি জনগণের সায় ও সম্মতি নেই। নৈতিক দিক থেকে এরা অবৈধ। তাই তারা যতই হুংকার ও গর্জন করুক না কেন, তাদের কোনো নৈতিক সাহস ও মনোবল নেই।

মিছিল শেষে পথসভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ছাত্রদল নেতা কাউসারসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।