কারা করে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ, কেন রাখা হয় এমন নাম?

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯

পরিবেশ ডেস্ক: ‘নার্গিস’, ‘আইলা’, ‘বায়ু’, ‘মহাসেন’, ‘তিতলি’, ‘ফণী’- নামগুলো পড়তে পড়তে এক একটা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের দৃশ্য চোখে ভেসে উঠবে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের নাম এরকম হয় কেন? কারা করে এই নামকরণ? সদ্য দেশের উপর দিয়ে ধেয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ১৪ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিতে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে- ঘূর্ণিঝড়গুলোর নাম কেন এমন রাখা হয়?

মূলত প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ের নাম অনেক বছর আগে থেকেই স্থির করা থাকে। পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম কি হবে সেটা ঠিক করা থাকে অনেক আগে থেকেই। আর সংখ্যা বা পরিভাষার চেয়ে বিশেষ্য পদবাচ্য সূচক নামগুলো যেহেতু মানুষের অনেকদিন মনে থাকে তাই গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের রীতি চালু করা হয়।

এতে করে একদিকে যেমন জনসচেতনা বাড়ে তেমনই আবার গণমাধ্যমেরও ঝড় নিয়ে প্রতিবেদন লিখার ক্ষেত্রে সুবিধে হয়।

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে প্রথম নামকরণের এই রীতি চালু হয়। ঘণ্টায় ৩৯ মাইল গতিতে যেসব ঝড় উঠতো সেগুলোকে বিশেষ সম্মান জানাতে নামকরণ করা হতো। ঝড়ের গতিবেগ ৭৪ মাইল ছাড়িয়ে গেলে হারিকেন, সাইক্লোন কিংবা টাইফুন হিসেবে তাদের চিহ্নিত করা হতো। বর্তমানে এই তিনটির যেকোনও এটি হলে ঝড়গুলোকে নামকরণের সম্মান দেয়া হয়।

এখন ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের আওতায় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ১১টি সতর্কতা কেন্দ্রের যেকোনও একটি এইসব ট্রপিক্যাল সাইক্লোনের আনুষ্ঠানিক নামকরণ করে। নাম জমা পড়ার পর সেগুলোকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় সংস্থার আঞ্চলিক ট্রপিক্যাল সাইক্লোন কমিটি।

সাধারণ নাম একবার চূড়ান্ত হলে সেগুলো আর পরিবর্তন হয় না। যদি না ধারণার চেয়েও বেশি প্রাণহানি কিংবা অতিমাত্রায় বিধ্বংসী কিছু হয়। যেমন ‘ফণী’ নামকরণ করেছিল বাংলাদেশ। পরে সেটির প্রস্তাব গ্রহণ করে দিল্লির রিজিওনাল স্পেশালাইজড মিটিওরোলজিক্যাল কেন্দ্র।

সাধারণত ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে ঝড়ের নামের তালিকা সংগ্রহ করে। পরে সেগুলো থেকে বাছাই করা হয়।

গেল কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান ও থ্যাইল্যান্ড- এই ৮টি দেশের পক্ষ থেকে ৮টি করে ভবিষ্যত সাইক্লোনের নাম জমা পড়ে। সেই ৬৪ টি নামের তালিকা থেকেই বাছাই করা হয় ‘নার্গিস’, ‘আইলা’, ‘বায়ু’, ‘মহাসেন’, ‘তিতলি’, ‘ফণী’ আর ‘বুলবুলের’ মতো নামগুলো।

‘বুলবুল’ তো চলে গেছে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানবে ইতোমধ্যে তার নাম রাখা হয়েছে ‘পবন’। এই নামটি রেখেছে শ্রীলঙ্কা। যদিও নামটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।