নিজেদের স্বার্থেই সুন্দরবনকে বাঁচাতে হবে: টিআইবি

সোমবার, নভেম্বর ১১, ২০১৯

ঢাকা : সুন্দরবনের কারণেই প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের শক্তি কমেছে এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কম হয়েছে। তাই দেশের স্বার্থেই সুন্দবরবন রক্ষায় অবিলম্বে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই ম্যানগ্রোভ বাঁচাতে এটিকে ঝুঁকির মুখে ফেলা রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ এবং সুন্দরবনকে ঘিরে যে পরিবেশবিনাশী শিল্পায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
সোমবার (১১ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অধিকাংশ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে সুদৃঢ় বর্ম হয়ে এই অঞ্চলকে রক্ষায় সুন্দরবনের অবদান অনস্বীকার্য। নিশ্চিদ্র সুরক্ষায় বেষ্টনী হয়ে ৬ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবন বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল বাংলাদেশের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষা করে আসছে।

বাংলাদেশে আঘাত হানার আগেই সাম্প্রতিক প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের শক্তি হ্রাস করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন যা আবহাওয়া অধিদফতরসহ সরকারি সংশ্লিষ্ট মহল থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর আগেও প্রলয়ংকরী সিডর, আইলাসহ আরও বহু মহাদুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপকতর হতে দেয়নি প্রকৃতির এই অপার সৃষ্টি। শুধু দুর্যোগ থেকে রক্ষায় নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবেই নয়, সুন্দরবন এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র, ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম রক্ষাকবচ। তাই সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে।’

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সুন্দরবনকে ধংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে অভিযোগ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মাদকীয় মোহে বৈশ্বিক, স্থানীয় উদ্বেগ ও পরামর্শ উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও কৌশলগত পরিবেশগত সমীক্ষা ছাড়াই সুন্দরবনের কাছে রামপাল, তালতলি ও কলাপাড়ায় বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বহুমুখী ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পায়ন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অথচ ইতোমধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি কর্তৃক সুন্দরবনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারপরও সব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা উপেক্ষা করে ‘সুন্দরবনের বিনিময়ে উন্নয়ন’ এর এই প্রক্রিয়া এখনও বন্ধ হয়নি।”

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ১১ স্মরণ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের স্বার্থে অনতিবিলম্বে রামপাল, তালতলি ও কলাপাড়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পায়ন কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকে লক্ষ্য করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে।’