গুরুদাসপুরে জলাবদ্ধতা হারিয়ে গেছে ৩০ গ্রামের মানুষের সুখ-শান্তি

সোমবার, নভেম্বর ১১, ২০১৯

নাহিদ হোসেন, নাটোর প্রতিনিধি : হাসান আলী বয়স ৭৫। নিজের জমি চাষাবাদ ও অন্যর জমিতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার বেশ সুখেই কাটছিল। কিন্তু কয়েক বছরের নিয়মিত পুকুর খননের জন্য জলাবদ্ধতা তার সেই সুখ-শান্তি কেড়ে নিয়েছে। জলাবদ্ধতার কারনে শুধু নিজের জমিতে নয় অন্যের জমিতেও কাজ মিলেনা এখন। আশেপাশের কয়েক গ্রামের ফসলি জমিগুলোতে কোন আবাদ হয়না। তিন বছর আগে তার স্ত্রী গত হয়েছেন।

নতুন করে ঘর বেধেছিলেন। কিš‘ অভাবী সংসারে চাহিদানুযায়ী খরচ যোগাতে না পেরে সেও তাকে ছেড়ে চলে গেছে। এখন ডোবানালায় মাছ ধরে জীবন কাটাচ্ছেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের হাসান আলী। ছেলে সন্তানরা আলাদা থাকলেও তারা তাদের কাছেই থাকতে বলে। কিš‘ খেটে খাওয়ার মত এখনও শক্তি রয়েছে শরীরে। তাই আলাদা থাকেন তিনি। এসব কথাগুলো বলছিলেন ৭৫ বছর বয়সী হাসান আলী।

সুত্রে জানা যায়, গত প্রায় এক যুগ আগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা অঞ্চলের বিল গুলোর জমি এক ফসলি বলে অজুহাত দেখিয়ে জমির মালিকরা পুকুর খনন শুরু করেন। এতে মাছ চাষ করে লাভবান হতে দেখে উৎসাহিত হন আশেপাশের গ্রামের মানুষ।

তাদের দেখাদেখি পাশের চাপিলা, বিয়াঘাট ও নাজিরপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর, বৃ-পাথুরিয়া, বি-চাপিলা, নওয়াপাড়া, পুরুলিয়া, ধানুড়া, পাইকপাড়া, পমপাথুরিয়া, খামার পাথুরিয়া, রওশনপুর, গজেন্দ্রচাপিলা, কান্দাইল, বাকিবেগপুর, রানীনগর, গোপিনাথপুর, আলিপুরসহ অন্তত উপজেলার ৩০ গ্রামের ফসলি জমি কেটে পুকুর খনের মহোৎসব শুরু হয়। এই সময় স্থানীয় প্রভাবশালীরা এই সব গ্রামের মধ্যে দিয়ে যাওয়া পানি নিস্কাসন খাল মীর্জা মামুদ ও তুলশী গঙ্গা খাল দখল করে পুকুর খনন করেন। পুকুর খনন করায় এসব গ্রামের পানি নিস্কাসন পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিস্কাশনের পথ না রেখেই অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে এসব পুকুর খনন করায় গুরুদাসপুর উপজেলার অন্তত ৩০ গ্রামের পানি নিস্কাসনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে কয়কে বছর ধরে।

গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন ভুট্টো বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারনে তার ইউনিয়ন সহ চারটি ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারনে চাষাবাদ করতে না পেরে অনেকেই বাড়ি ও জমি ফেলে রেখে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমাল হোসেন বলেন, সহাকারী কমিশনার ভুমি ও কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে জরিপ শুরু করেছে। চলনবিল উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্প চালু হলে এধরনের সমস্যা আর থাকবে না।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, তিনি শত বিরোধীতা করা সত্বেও অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করা হয়েছে। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয়ে একটি জরিপ টিম কাজ করেছেন। চলনবিল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এসমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে। #