অধ্যাপকের ব্যাগে প্রেমিকার কাটা হাত!

সোমবার, নভেম্বর ১১, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার একজন সুপরিচিত অধ্যাপক তার প্রেমিকাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। ওই নারী অধ্যাপকের সাবেক এক ছাত্রী ছিলেন। ছাত্রীর আইনজীবী জানান, ওই অধ্যাপক একটি নদীতে পড়ে গিয়েছিলেন এবং তার ব্যাগের মধ্যে ওই নারীর হাত ছিল।

রাশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওলেগ সোকোলফ নামে ওই অধ্যাপক মাতাল অবস্থায় নদীতে পড়ে যান। তিনি ওই নারী দেহের অংশগুলো নদীতে ফেলার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশ পরে ওই অধ্যাপকের বাড়ি থেকে ছাত্রী ২৪ বছর বয়স্ক আনাস্তাসিয়া ইয়েশচেঙ্কোর বিকৃত দেহ উদ্ধার করে। ওলেগ সোকোলফ অধ্যাপকের আইনজীবী আলেকজাণ্ডার পচুইয়েভ সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, তার মক্কেল তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। এছাড়া তিনি জানান, তার মক্কেল যা করেছেন তার জন্য তিনি এখন দু:খিত এবং তিনি পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।

প্রফেসর সোকোলফ পুলিশকে বলেছেন যে এক তর্কাতর্কির সময় তিনি তার প্রেমিকাকে খুন করেন এবং তারপর করাত দিয়ে তার প্রেমিকার মাথা, হাত ও পা কেটে ফেলেন। বলা হচ্ছে, অধ্যাপক তার প্রেমিকার দেহ সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং তার আরও পরিকল্পনা ছিল নেপোলিয়নের সাজপোশাক পরে তিনি সবার সামনে আত্মহত্যা করবেন। পচুইয়েভ বলেছেন, অধ্যাপক সোকোলফ হয়ত মানসিক চাপে ভুগছিলেন। নদীতে ডুবে হাইপোথার্মিয়ার শিকার হওয়ায় বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই ঐতিহাসিক নেপোলিয়নের ওপর বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন এবং বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে ইতিহাস বিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি এবং মিস ইয়েশচেঙ্কো যৌথভাবে বেশ কিছু বই ও গবেষণাপত্র লিখেছেন। অধ্যাপক সোকোলফ এবং মিস ইয়েশচেঙ্কো দুজনেই ফরাসি ইতিহাস পড়েছেন এবং তারা দুজনেই ঐতিহাসিক সময়ের পোশাক আশাকে সাজগোজ করতে ভালবাসতেন।

তার শিক্ষার্থীরা তাকে প্রতিভাবান অধ্যাপক হিসাবে বর্ণণা করেছে এবং বলেছে তিনি ভাল ফরাসি বলতেন ও বিভিন্ন সময়ে নেপোলিয়নের অভিনয় করেছেন। তিনি ফ্রান্সের ইন্সটিটিউট অফ সোস্যাল সায়েন্স, ইকনমিক্স অ্যাণ্ড পলিটিক্স নামে প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য। তারা জানিয়েছে এই ঘটনার পর তারা তাদের বিজ্ঞান বিষয়ক কমিটি থেকে তাকে অপসারণ করেছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ওলেগ সোকোলফের ভয়ঙ্কর অপরাধের কথা জেনে আমরা বিস্মিত। আমরা কখনও ভাবতে পারিনি তিনি এধরনের নৃশংস কাজ করতে পারেন। সূত্র: বিবিসি।