সময় নিয়ে পবিত্র কোরআনে যা বলা হয়েছে

শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০১৯

ঢাকা : সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। জীবন থেকে যে সময় চলে যায় সেই সময় আর ফিরে আসে না। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞানের উচ্চতর স্থানে যেমন যাওয়া যায়, আবার সময়ের সদ্ব্যবহার না করলে দুর্ভোগও পোহাতে হয়। পবিত্র কোরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সময় সম্পর্কে বলেছেন। প্রতিটি মানুষকে সময় ও সুযোগ যেমন দিয়েছেন তেমননি এই সময়ের হিসাবও আল্লাহ তায়ালা নিবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

মানব জাতির জীবন পরিচালনার আদর্শ গাইডলাইন পবিত্র আল-কোরআনে সময় অপচয় ও অনর্থক কাজে ব্যয় করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এমনকি আল্লাহ্ তায়ালা সময় বোঝানোর জন্য কোরআনে অনেক প্রতিশব্দ ব্যবহার করে এর প্রতি গুরুতারোপ করেছেন। এবার সময় সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা কী বলেছেন তা জেনে নেই…

সূরা ইউনুসের ৫নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মহামহিম আল্লাহ সূর্যকে তৈরি করেছেন বিচ্ছুরিত আলোর উৎসরূপে আর চাঁদকে করেছেন জ্যোতির্ময় (সে আলোর প্রতিফলন)। তিনি চাঁদের কক্ষপথ ও কলাকাল নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে তোমরা বছর দিন ও সময়ের হিসাব নির্ণয় করতে পারো। আল্লাহ এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি। জ্ঞানীদের জন্যে তিনি তাঁর বাণী বিশদভাবে বয়ান করেন।’

আল্লাহ তায়ালা সূরা ইউনুসের ১১নং আয়াতে বলেন, ‘পার্থিব ভালো জিনিস পাওয়ার জন্যে মানুষ যেভাবে তাড়াহুড়ো করে, আল্লাহ যদি মানুষের পাপের শাস্তিদানে সে-রকম হাড়াহুড়ো করতেন, তবে সহসাই তারা শেষ হয়ে যেত। তাই যারা বিশ্বাস করে না যে, পরকালে আমার সামন হাজির হতে হবে, তাদেরও আমি কিছু সময়ের জন্যে ছেড়ে দিয়ে রেখেছি, অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের মধ্যে উদভ্রান্তের ন্যায় ঘুরপাক খাওয়ার জন্যে।

সূরা হজের ৫নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি যে শুক্রাণুকেই ইচ্ছা করি, নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত জরায়ুতে স্থিতিশীল রাখি। তারপর শিশুরূপে ভূমিষ্ঠ করি। তারপর কালক্রমে পরিণত বয়সে উপনীত করি। যৌবন আসার আগেই কারো কারো মৃত্যু হয়, আবার কাউকে কাউকে নিষ্কর্ম বয়স পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা হয়।’

সূরা কলমের ৪৪নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে নবী! যারা আমার সত্যবাণীকে প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের বিষয়টি আমার হাতে ছেড়ে দাও। আমি একে একে এমনভাবে ওদের শক্তি ক্ষয় করে দেবো যে, ওরা বুঝতেও পারবে না। যদিও আমি সময় ও সুযোগ দিয়ে থাকি, কিন্তু আমার সূক্ষ্ম কৌশল অত্যন্ত কার্যকর।’

সূরা মুজাম্মিলের ২-৪নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ তুমি রাতে প্রার্থনার জন্যে দাঁড়াও, রাতের অর্ধেক বা তার চেয়ে কিছু কম বা কিছু বেশি সময় নিয়ে। তুমি সে সময় কোরআন তেলাওয়াত করো শান্তভাবে, সুস্পষ্ট উচ্চারণে, অর্থের প্রতি মনোযোগী হয়ে।’

সূরা ইনশিরাহর ৭-৮নং আয়াতে মহান রাব্বুল আলামীন বলেছেন, ‘তুমি দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করো আর যখনই সময় পাও প্রতিপালকের কাছে একান্তভাবে নিমগ্ন হও।’

সূরা-আরাফের ১৩১নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যখন ভালো সময় আসত, তখন ওরা বলত ‘এটাই আমাদের প্রাপ্য।’ আর যখন খারাপ সময় আসত তখন মুসা ও তার সঙ্গীদেরকে ওরা এ দুর্ভাগ্যের কারণ মনে করত। কিন্তু ওদের দুর্ভাগ্য যে আল্লাহ (প্রণীত নিয়মে) নির্ধারিত ছিল, সে বিষয়ে ওদের কোনো বোধোদয়ই হয়নি।’

আমাদের প্রিয় মহানবী হযরত মুহম্মাদ (সা:) নিজে সময়কে গুরুত্ব দিতেন এবং তাঁর উম্মতদেরকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে তাকিদ দিয়েছেন। প্রতিটি মানুষকে সময়ের হিসাব কিয়ামতের দিন দিতে হবে বলে তিনি সর্তক করে দিয়েছেন। রাসূল (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন কোন বান্দা চারটি প্রশ্নের উত্তর না দেয়া পর্যন্ত সামনে যেতে পারবে না।

সেই চারটি প্রশ্ন হলো- সে তার জীবনকাল কোন কাজে ব্যয় করেছে, তার যৌবনকাল কোথায় ব্যয় করেছে, তার সম্পদ কোথা থেকে আয় করে কোথায় ব্যয় করেছে এবং তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী সে আমল করেছে কি না। এই চারটি বিষয়ই সময়ের সাথে সম্পর্কিত।