জাহিন স্পিনিং ডিভিডেন্ডের নামে কাগজ ধরিয়ে দিচ্ছে

মঙ্গলবার, নভেম্বর ৫, ২০১৯

ঢাকা : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ৫ বছরেও বোনাস শেয়ার থেকে বের হতে পারছে না জাহিন স্পিনিং। বরং ডিভিডেন্ডের নামে কাগজ ধরিয়ে দিচ্ছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের টাকায় ব্যবসা করে বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতারনা করছে।

ব্যবসার টাকা নিজেরা রেখে দিয়ে বছর শেষে ডিভিডেন্ডের নামে কাগজ দিচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্যও বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রতিবছরই কোম্পানিটি মুনাফার শতভাগ রেখে দিচ্ছে। তারপরেও নিয়মিতভাবে কমছে মুনাফা ও লভ্যাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিটির ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রান্তিকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কমেছে। কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর ১৮) ০.৩১ টাকার ইপিএস দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ১৮) কমে হয় ০.১৯ টাকা। যা তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ১৯) ০.১৩ টাকা ও চতুর্থ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন ১৯) ০.০৫ টাকা হয়েছে। এরমাধ্যমে পুরো অর্থবছরটিতে ইপিএস হয়েছে ০.৬৩ টাকা।

যার পরিমাণ আগের অর্থবছরে ছিল ১.১৭ টাকা। জাহিন স্পিনিং ২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এরপরে ৫ বার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর প্রতিবারই বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।

পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) উত্তোলিত অর্থ ব্যবহারের আগেই জাহিন স্পিনিংয়ের পর্ষদ বোনাস শেয়ার ঘোষণা দিয়ে যাত্রা শুরু করে। ২০১৪ সালের ব্যবসায় প্রথমবার ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে। পরের ২ বার ১৫ শতাংশ করে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শুধুমাত্র ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ব্যবসায় মাত্র ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

জাহিন স্পিনিংয়ের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ০.৬৩ টাকা হিসেবে মোট ৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে। এরমধ্য থেকে ৫ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ০.৫০ টাকা হিসাবে ৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা মুনাফার ৭৯ শতাংশ দিয়ে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো হবে। মুনাফার বাকি ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা বা ২১ শতাংশ রিজার্ভে রাখা হবে।

এই কোম্পানিটি প্রতিটি ১০ টাকা করে ২টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১টি রাইট শেয়ার ইস্যু করতে চায়। এক্ষেত্রে শেয়ারবাজারে ৪ কোটি ৯২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫০টি রাইট শেয়ার ছেড়ে ৪৯ কোটি ২৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা উত্তোলন করতে চায়। অথচ কোম্পানিটির শেয়ার সেকেন্ডারি মার্কেটে ৫.৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে গত বছরের ৭ মার্চ কোম্পানিটি ১টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১টি রাইট ইস্যুর মাধ্যমে ৯৮ কোটি ৫৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা উত্তোলন করার অনুমতি পেয়েছিল।

এ জন্য প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ টাকা। তবে গতবছরের ২২ জুলাই কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে রাইট শেয়ারের সাবস্ক্রিপশন পূর্ব-নির্ধারিত তারিখ বাতিল করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটিকে সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনপূর্বক পুনরায় সংশোধিত রাইটস শেয়ার প্রস্তাবের আবেদন কমিশনে দাখিল করতে বলা হয়।