উত্তপ্ত ক্যাম্পাসে ৩০০ পুলিশ চেয়েছে জাবি প্রশাসন

মঙ্গলবার, নভেম্বর ৫, ২০১৯

ঢাকা : উত্তপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। যেকোনও সময়ে বড় ধরনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৩০০ পুলিশ চেয়ে আবেদন করেছে জাবি কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ ঢাকা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর এ আবেদন করেন।

পুলিশ সুপারের উদ্দেশ্যে আবেদনে বলা হয়, আপনি অবগত আছেন যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজমান। বর্তমানে উক্ত পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। যা বিশ্বদ্যালয়ের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অদ্য ০৫-১১-২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় আগামী ০৬-১১-২০১৯ তারিখ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়েল সকল ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অদ্য ০৫-১১-২০১৯ তারিখ বিকাল ৫.৩০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় ৩০০ (মহিলা পুলিশসহ) পুলিশ প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এদিকে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণাকে কেন্দ্রে করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুই পক্ষই আবারও জড়ো হয়েছেন, বিক্ষোভ করছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনও সময়ে বড় ধরনের হামলা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্যের পদত্যাগ তথা অব্যাহতির দাবিতে দুর্নীতিবিরোধী লাগাতার বিক্ষোভ আন্দোলনের মুখে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই ঘোষণার পরপরই ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীনগর’ ব্যানারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আবারও বিক্ষোভ শুরু করে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও ক্যাম্পাস পদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

অপরদিকে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও মিছিল করছে। তারা বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রছাত্রীরা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হচ্ছেন।

এর আগে ভিসির বাসভবন ঘেরাও করে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৪ নভেম্বর) থেকে তারা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। ভিসির পক্ষের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও অবস্থান নেন।

পরে মঙ্গলবারও দুই পক্ষ ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান অব্যাহত রাখে। বেলা ১১টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন।

উল্লেখ্য, দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৪৪৫ কোটি কাটার উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের উপাচার্যের প্রায় ২ কোটি টাকা ‘ঈদ সালামির’ দেয়ার অডিও ফাঁস দেয়। এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর আন্দোলন নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।