ই-কমার্স গ্রাহক সন্তুষ্টির সমন্বিত চ্যালেঞ্জ নিয়েছে লীড ও জানশাইন

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৯

ঢাকা : বাংলাদেশে ই-কমার্স বাড়ছে খুবই দ্রুত। প্রতি বছরে নতুন নতুন যোগ হচ্ছে ই-কমার্স সাইট। সব ধরণেই পণ্যই এখন অনলাইনে কেনা-বেচা হয়। এর মধ্যে পোশাক খাতের পণ্যগুলো অন্যতম। তবে, গ্রাহক সন্তুষ্টির জায়গায় পণ্য ও পণ্যের ছবির মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা ই-কমার্সগুলোর জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পেরে অনেক ই-কমার্স সাইট বন্ধ হয়ে গেছে।

আর এই চ্যালেঞ্জটিকেই গ্রহণ করেছে পোশাক খাতের ই-কমার্স সাইট লীড। বাংলাদেশে বিশ্বস্ত একটি ই-কমার্স সাইট গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে লীড। পণ্যের ছবির সাথে ডেলিভারি পণ্যের হুবহু মিল রাখা এবং খুবই স্বল্প সময়ে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

যাত্রার অল্প সময়েই ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৯ হাজার প্রকৃত ফলোয়ার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি এবং এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। পোশাক খাতের প্রায় সব আইটেমই সংগ্রহে রেখেছে তারা। এখন চলছে শীতের পোশাকের আয়োজন। ইতোমধ্যেই লীড এবং জানশাইন একসাথে সমন্বয় করে বিদেশী প্রায় ১০টি দেশের সাথে কাজ করার জন্যে সম্প্রতি এগ্রিমেন্ট করেন।

লীডের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ সালমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কোনো গ্রাহক যাতে মন খারাপ করে ফিরে না যায়। গ্রাহকের যেকোনো সমস্যা, তা যদি লিডের ত্রুটির কারণেও না হয় তবুও আমরা গ্রাহককে খুশি করতে চেষ্টা করি। আমাদের পণ্যের কোনো সামন্য ত্রুটি থাকলেই আমরা সেটি পরিবর্তন করে দেই। তিনি আরও বলেন, আজকের এই লীড এর সফলতার নেপথ্যে রয়েছে জানশাইন অ্যাপারেলস-এর অবদান। জানশাইনের গুণগত মানের পণ্য এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান রবিউল ইসলাম রুবেলে সার্বিক পরামর্শ ও সহজযোগিতা লীডকে সার্বিক বিষয়ে সমৃদ্ধ করেছে।

জানশাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলামে রুবেল বলেন, জানশাইন দেশের প্রথম কাস্টম অ্যাপারেল ম্যানুফেকচারিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের মূল লক্ষ্য এদেশের অধিকাংশ ই-কমার্স ক্লদিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানশাইনের সেবা পৌঁছে দেয়া। সেক্ষত্রে আমাদের মূল ফোকাস, কোয়ালিটির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা। যিনি প্রোডাকশন করবেন তিনি যদি ভালভাবে চেকারের দায়িত্বটা গ্রহণ করেণ তাহলে পণ্যের গুনগতমাণ ভাল থাকে অর্থাৎ মেক সেলফ চেকার।

জানশাইন ফেব্রিক্সের গুণগত মান ও ক্রেতাদের সময়সীমাকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ক্রেতারা তাদের নির্দিষ্ট সময়ে চাহিদা মতো পণ্য বুঝে পেলে বিক্রেতার প্রতি সন্তষ্ট থাকে। পণ্যের গুণগত মান ও যথা সময়ে ডেলিভারি নিশ্চিত করতে না পারলে ক্রেতাদের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখা যায়না।

তিনি আরো বলেন, গার্মেন্টস বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্যে আরো সম্ভাবনাময় ও উৎপাদনশীল খাত একটি সেক্টর। এখনো এই খাতটি এদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্ব বাজারে ৩০ শতাংশ চীনের বিপরীতে আমরা মাত্র ৬ শতাংশ যোগান দিচ্ছি। সুতরাং এই শিল্পকে বিস্তৃত করার আরো অনেক সুযোগ রয়ে গেছে।

উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ই-কমার্স এখনো একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। অনলাইনে অর্ডার দেওয়া গেলেও এখনো নগদ অর্থেই লেন-দেন বেশি। অর্ডার অনলাইনে দেয়া হলেও কল সেন্টার থেকে ফোন করে সেটি আবার নিশ্চিত করা হয়। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পণ্য কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিয়ে ক্যাশ টাকায় পেমেন্ট নিয়ে আসে। কাজেই পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স বাংলাদেশে এখনো সেভাবে চালু হয়নি।