মিটারে চলছে না সিএনজি ,ভাড়া নৈরাজ্য ,বিপাকে যাত্রীরা

শুক্রবার, অক্টোবর ২৫, ২০১৯

ঢাকা: রাজধানীতে কোন সিএনজিচালিত অটোরিকশার ‌মিটা‌রে চল‌ছে না। ভাড়ায় নৈরাজ্য কর‌ছে ফ‌লে বিপা‌কে পড়ছে যাত্রীরা।

মিটার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর কিছুদিন মিটার এবং তারপর মিটারের থেকে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেশি ভাড়া চাইলেও বর্তমা‌নে তারা ভাড়া ঠিক করে গাড়ি চালাচ্ছে! সিএনজি ভাড়া মিটার অনুসারে হওয়ার কথা থাকলেও তারা মি‌টিা‌রে যা‌চ্ছে না । যেখা‌নে মিটা‌রে ভাড়া আ‌সে ১০০ থে‌কে ১২০ সেখা‌নে ২৫০/৩০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দা‌বি কর‌ছে তারা।

টেক‌নি‌কেল মোড় থে‌কে গু‌লিস্থান পর্যন্ত নতুন মিটা‌রের ভাড়া আ‌সে ১৫০ টাকা অথচ টেক‌নি‌ক্যাল মো‌ড়ে দা‌ড়ি‌য়ে থাকা সিএন‌জি ৪০০ টাকার ক‌মে আস‌ছেনা।আবার গু‌লিস্থান থে‌কে কাজলা, ফ্লাইওভার এর উপর দি‌য়ে তারা ভাড়া দা‌বি কর‌ছে ২৫০ টাকা শুধু ফ্লাইওভার পার হ‌তে তারা এ ভাড়া দা‌বি কর‌ছে।

‌টেক‌নি‌কেল মো‌ড়ে দা‌ড়ি‌য়ে থাকা জাতীয় বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের শিক্ষার্থী লুপা আক্তার জানান, গু‌লিস্থান যা‌বো কিন্তু বাস পা‌চ্ছি না তাই সিএন‌জিতে যে‌তে চাইলাম কিন্তু তারা এতো বেশী ভাড়া চায় যেখা‌নে ১৫০/ ২০০ টাকা ভাড়া সেখা‌নে তারা ৫০০ টাকা চায় ৪০০ টাকা ঠিক দেয় ।

‌তি‌নি আরও ব‌লেন, মিটা‌রের কথা বললাম মিটা‌রে চ‌লেন যা আস‌বে তার চে‌য়ে ৫০ টাকা বেশী দিব কিন্তু তারা যা‌বে না ।

‌টেক‌নি‌কে‌লে দা‌ড়ি‌য়ে থাকা সিএন‌জির ড্রাইভার আব্দুল র‌শিদ কা‌ছে ভাড়া নি‌য়ে জান‌তে চাই‌লে তি‌নি ব‌লেন, বর্তমা‌নে কোন যা‌ত্রি মিটার এর কথা জিজ্ঞাসা ক‌রে না । ভাড়া কত তাই জিগায় আমরা আমা‌দের যা প‌ু‌ষে সে অনুযায়ী ভাড়া চাই । এ সময় ঐ মে‌য়েটা মিটা‌রে যে‌তে চাই‌লে সিএন‌জি ড্রাইভার ব‌লেন , আপু মিটা‌রের কথা ব‌লেন না । এম‌নি চ‌লে না । আর মিটা‌রে গে‌লে তো না খে‌য়ে থাক‌তে হ‌বে ।

‌মিটা‌রে যা‌বেন না ত‌বে ভাড়া এ‌তো বেশী চান‌ কেন জান‌তে চায়‌লে তি‌নি ব‌লেন, সবাই যে ভাড়ায় যায় আ‌মিও যাই এ‌তে আমার দোষ কোথায়?

স‌নির এখরা থে‌কে গু‌লিস্থান পল্টন আস‌তে সিএনসি চালকরা ভাড়া দা‌বি কর‌ে ৩০০ থে‌কে ৩৫০ টাকা যেখা‌নে মিটা‌রে ভাড়া আ‌সে ১২০/১৫০ টাকা ।

স‌নিরআখরা ওভার ব্রিজ এর নি‌চে দা‌ড়ি‌য়ে থাকা সিএনজির চালক মাহবুব ব‌লেন, যাত্রীর কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিতে আমাদেরও ভাল লাগে না। কিন্তু এখন গাড়ির জমা দেই আমি ৯০০ টাকা। আমার গাড়ি পুরাতন তাই কম দেই। নতুন গাড়ির জমা ১ হাজার থেকে এগারো’শ টাকা। তারপর অনেক গাড়ির কাগজ ঠিক না থাকায় রাস্তায় পুলিশ ধরলে টাকা-পয়সা দিয়ে ছাড়ায়া নিয়া আসতে হয়। রাস্তায়ও থাকে জ্যাম, তাই বেশি ট্রিপ নিতে পারিনা। মিটারে চললে দিন শেষে ১০০-২০০ টাকার বেশি থাকে না।

স‌নির আখরা দা‌ড়ি‌য়ে থাকা মেহেদী হাসান জানান, ঢাকা মে‌ডি‌কে‌লে যা‌বো একটু তারা আ‌ছে তাই সিএন‌জি নি‌তে চাইলাম কিন্তু তারা যে ভাড়া চায় তা জবায় দেওয়ার মত। তি‌নি আরও ব‌লেন,আ‌মি বেশীর ভাগ সিএন‌জি‌তে যাই বি‌শেষ ক‌রে মে‌ডি‌কে‌লে দরকার হ‌লে

‌তি‌নি ব‌লেন, সিএন‌জি‌তে মিটারে নতুন ভাড়া সংযুক্ত হওয়ার পর তারা মিটারের থেকে কিছু বাড়িয়ে দিতে বলত। পরবর্তীতে তারা মিটারের থেকে সব সময় ৩০ টাকা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য বলে। আর এখন স‌নিরআখরা থেকে ৩৫০ টাকার কমে কোন সিএনজি যেতে চায় না। যখন মিটারের থেকে ৩০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে যে‌তাম, তখনও ভাড়া হত ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। এখন মিটারের থেকে ২০০ টাকার মত বেশি ভাড়া দিয়ে যে‌তে হচ্ছে। মিটারে যাওয়ার কথা বললে তারা আর কথাই বলতে চায় না।

একই কথা জানালেন উত্তরায় থাকা নুসরাত। তিনি জানান, উত্তরা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য সিএনজি ভাড়া করলে আমাকে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। মিটারে যাওয়ার ব্যাপারে কোন কথাই শুনতে চায় না তারা। অথচ উত্তরা থেকে জ্যাম ঠেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেও মিটারে ভাড়া ওঠে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। আবার কোনদিন জ্যামে কয়েক ঘণ্টা বসে থাকলে মিটারে যদি ঠিক করা ভাড়ার থেকে বেশি বিল ওঠে তাহলে ৫০ টাকা বাড়িয়ে দিতে বলে।

এ‌বিষয় নিয়ে গাড়ি মালিকদের বক্তব্য জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ‌নিরআখরার ২৪ ফু‌টের একজন গাড়ির মালিক বলেন, একটা সিএনজি যে দামে কেনা হয় তাতে মাসে ৩০ হাজার টাকার মত না ওঠাতে পারলে কোন লাভ থাকে না। সিএনজি গুলো বর্ষার সময় বেশ দ্রুত নষ্ট হয়। বারবার ঠিক করাতে খরচ চলে যায় অনেক। আবার এর বিভিন্ন যন্ত্রের দামও বেশি। তাই সিএন‌জির ভাড়া বাবদ ড্রাইবার এর কাছ থে‌কে একটু ভাড়া বেশী নেওয়া হয় । ত‌বে যথামত চেষ্টা ক‌রি ভাড়া কম নেওয়ার।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হয়। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সময় জানান, মিটার বিহীন কেউ যাত্রী যেন না নেয় সে কারণেই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কার্যত এই মিটারের ভাড়া বাড়ানোর পর বেড়ে গেছে সিএনজির আগের ভাড়ার পরিমাণ। মিটার অনুসারে সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো না গেলেও বিষয়টা দেখার যেন কেউ নেই।