রোববার গণভবনে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন শেখ হাসিনা

শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

ঢাকা : তলানিতে নেমে যাওয়া যুবলীগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে আসন্ন সপ্তম কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নানা ধরনের আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে বয়সের বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, যুবলীগের কংগ্রেসকে সামনে রেখে রোববার (২০ অক্টোবর) বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের যে বৈঠক করতে যাচ্ছেন সেখানে অন্য বিষয়গুলোর পাশাপাশি এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে বলেছেন, কোন বয়স পর্যন্ত যুবলীগ করা যাবে, সেসব আলোচনা রোববারের মিটিংয়েই করা হবে। আওয়ামী লীগের অনেকেই তরুণ ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব নিয়ে আসার মাধ্যমে সংগঠনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ৪৫ এর মধ্যে বয়সসীমা বেঁধে দেওয়ার পক্ষে। যদিও যুবলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতাদের একটা বড় অংশই এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছে।

যুবলীগ নেতারা মনে করেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব নিয়ে আসা দরকার। তবে তা নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি করা হলে দলীয় শৃঙ্খলাটা আরও সুসংহত ও গতিশীল হবে, যা খুবই প্রয়োজন। তবে সবকিছু আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে এমনটাও জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

তারা বলেন, নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, তিনি যেভাবে বলবেন আমরা সেভাবেই কাজ করব। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক ও তার অনুপস্থিতিতে কংগ্রেসের সভাপতির (সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি) দায়িত্ব এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিষয় নিয়েও সিদ্ধান্ত রোববারের বৈঠক থেকে আসবে এমনটা আশা করছেন সংগঠনের নেতারা। প্রতিষ্ঠাকালীন ৪০ বছর বয়সীরা যুবলীগের নেতৃত্ব দিতে পারবেন এমন বিধান ছিল গঠনতন্ত্রে কিন্তু ১৯৭৮ সালের দ্বিতীয় কংগ্রেসের পর এ বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়। ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন ৬৪ বছর বয়সী ওমর ফারুক চৌধুরী, বর্তমানে তার বয়স ৭১ বছর।

এছাড়াও সংগঠনটির সিনিয়র নেতাদের বেশির ভাগেরই বয়স ৬০ পার হয়েছে। এ অবস্থায় যুবনেতাদের বয়স কত হবে তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে।

কাউন্সিলের বিষয়ে দিকনির্দেশনা নিতে রোববার বিকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে প্রেসিডিয়াম, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা। এ বৈঠকে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন থাকতে পারছেন না।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে অনেকেই যুবলীগের নেতৃত্বে আসার আগ্রহ জানাচ্ছেন। তবে দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে এবারে নেতাদের যোগ্যতা দেখে কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে। আর ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের নিয়ে কমিটি করা হবে।

এদিকে যুবলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ওমর ফারুক চৌধুরীকে বাদ দিয়ে প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র কোনো সদস্যকে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব দেবেন সংগঠনটির নেতারা।