রাজনৈতিক বৈষম্যে তরুণরা বিপথে, জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে: মনিরুল

শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

ঢাকা : কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘যারা মানসিকভাবে দুর্বল, তারাই জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পরছে। এই তালিকায় তরুণরা বেশি ঝুঁকিতে। সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে তরুণরা বিপথে চলে যাচ্ছে।’

বৈষম্য না কমলে জঙ্গিবাদের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশংঙ্কা প্রকাশ করেছেন জঙ্গি দমনে দক্ষ এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বই জঙ্গিবাদের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে সেই তুলনায় বাংলাদেশের ঝুঁকি কম।’

শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে গবেষণা সংস্থা সিসার্ফ’র আয়োজনে ‘ঢাকা পিস টক’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি সময়ে ধরা পড়া জঙ্গিদের মধ্যে কেউ কেউ আগে থেকে ছিলো আবার অনেকে নতুন করে জড়িয়ে পড়েছে। মতাদর্শের জায়গাগুলোতে অর্থাৎ ইন্টারনেটে জঙ্গিবাদে লোভনীয় ও আকর্ষণীয় বেশ কিছু প্যাকেজ দিয়ে আকৃষ্ট করে। এন্টিবডিকম অর্থাৎ যার ভেতরে দেশপ্রেম নাই, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ নাই, যার ভেতরে টলারেন্স নাই, মতাদর্শের যায়গায় যে খুবই দুর্বল, ভঙ্গুর এবং ডিসিশন নিতে পারছেন না, পাশাপাশি জীবনের যে বাস্তবতা সেটা তারা মেনে নিতে পারছে না এই সব তরুণরাই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পরছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘হলি আর্টিজান হামলার পর জঙ্গিবাদবিরোধী কাজ বেশি হচ্ছে যা আগে খুব একটা ছিল না। আমাদের এটা আরও বাড়াতে হবে। আমাদের একটি জঙ্গিবাদবিরোধী এন্টিবডি তৈরির কাজ করতে হবে।’

একই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং সিসার্ফের নির্বাহী পরিচালক শবনম আজিম বলেন, গবেষণার ফল বলে- উগ্রবাদের নির্দিষ্ট কোনও কারণ নেই। কেননা একেক পরিস্থিতিতে একেকভাবে উগ্রবাদের সৃষ্টি হয়েছে। কোনও ছকেই এই উগ্রবাদকে সরলীকরণ করা যাবে না। সহিংস উগ্রবাদ বা এর ঘনীভূত রুপ সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো একটি দীর্ঘমেয়াদী জটিল কাজ কোনো সুনির্দিষ্ট বাহিনী, সংস্থা ও ব্যক্তির পক্ষেও সম্ভব না। এজন্য সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু যে ধর্মীয় উন্মাদনার কারণে সহিংস উগ্রবাদের ঘটনা ঘটছে তা কিন্তু নয়। নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মূল্যবোধ এরকম নানান বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। কী কারণে আমাদের তরুণরা সহিংস উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে তা নিয়ে অনুসন্ধান ও গবেষণাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘তরুণরাই বেশি সহিংস উগ্রবাদে ঝোঁকে, আর ক্ষতি পুরো জাতির। কোনও শিক্ষার্থী যাতে উগ্রবাদে না জড়ায়, সেজন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দরকার পরিবারভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা। এরপর সামাজিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে উগ্রবাদ ও মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এই ক্ষেত্রে সিসার্ফ সচেনতামূলক কাজটিই করতে চায়। যে কাজগুলো মানুষকে জঙ্গিবাদে নিয়ে যায় সিসার্ফ ‘ঢাকা পিস টক’ এর মাধ্যমে সেগুলো শনাক্ত করবে ও সমাধানের পথও দেখাবে।’