দেশের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ৪৯ শতাংশ খর্বকায়

শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

ঢাকা : দেশের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুদের অপুষ্টির হার অনেক বেশি। বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৪৯ শতাংশ খর্বকায়। অর্থাৎ এদের উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ তাদের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এতথ্য জানানো হয়েছে।

বার্ষিক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪৭ লাখ। এদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ শিশু স্থূলকায়। এদের ওজন বয়সের তুলনায় অনেক বেশি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের শিশু পুষ্টি ও শিশুস্বাস্থ্যের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে ইউনিসেফ বলেছে, শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত ঝুঁকির মধ্যে আছে। বন্যা ও নদীভাঙনে উদ্বাস্তু হয়ে বহু মানুষ শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেয়। বস্তির শিশুদের অপুষ্টি, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, নির্যাতন, সহিংসতার ঝুঁকি বেশি।

সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কমছে। ১৯৯০ সালে ১ হাজার শিশু জন্ম নিলে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ১৪৪টি শিশু মারা যেত। তবে ২০১৮ সালে এই হার কমে ৩০-এ দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালে এই বয়সী প্রায় ৮৯ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।

তবে বাংলাদেশ নবজাতক মৃত্যুহার কাঙ্ক্ষিত হারে কমাতে পারছে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৮ সালে মৃত্যু হওয়া ৮৯ হাজার শিশুর মধ্যে ৫০ হাজারই ছিল নবজাতক। অর্থাৎ জন্মের পর ২৮ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই ৫০ হাজার শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। নবজাতক মৃত্যুহার হাজারে ১৭। অন্যদিকে শিশুমৃত্যুর ৫৭ শতাংশ আসলে নবজাতকের মৃত্যু।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক এই সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের ২৮ শতাংশ শিশু প্রয়োজনের চেয়ে কম ওজন নিয়ে জন্মায়। জন্মের পরপর ৫১ শতাংশ শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো হয়। ৪৯ শতাংশ শিশুকে ঠিক সময়ে শালদুধ দেয়া হচ্ছে না। ৬ মাসের কম বয়সী ৫৫ শতাংশ শিশু শুধু বুকের দুধ খায়। অর্থাৎ এই বয়সী শিশুদের ৪৫ শতাংশ শিশু পুষ্টিসমৃদ্ধ এই খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসবই শিশুমৃত্যুতে ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ইউনিসেফ বলছে, বিশ্বায়ন, নগরায়ণ, বৈষম্য, মানবিক সংকট- এসবই শিশু পুষ্টিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বিশ্বায়ন খাদ্য পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশ্বব্যাপী বিক্রি হয় এমন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ৭৭ শতাংশ তৈরি করে মাত্র ১০০টি প্রতিষ্ঠান।