সদস্যদের ডাটাবেজ তৈরি করছে বিএনপি

শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

ঢাকা: সারা দেশে দলীয় সদস্যদের ডাটাবেজ তৈরি করছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে সদস্যদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এসব তথ্য সংগ্রহে কেন্দ্রীয় তিন যুগ্ম মহাসচিবকে দশ সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান ও হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহে কাজ শুরু করেছেন তারা। সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেয়া হবে। এরপর কেন্দ্রীয়ভাবে তৈরি করা হবে এ ডাটাবেজ।
প্রত্যেক নেতার ছবিসহ নাম-পরিচয়, মোবাইল নাম্বার, রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকবে ডাটাবেজে। এরপর প্রত্যেক সদস্যকে দেয়া হতে পারে ছবিযুক্ত দলীয় আইডি কার্ড। আগামী জাতীয় কাউন্সিলের আগে এ প্রক্রিয়া শেষ করবে দলটি। মূল দলের পাশাপাশি যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ সংগঠনেও ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সদস্যদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহে কেন্দ্রীয় তিন যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সার্বিক করণীয় নিয়ে এই তিন নেতার সঙ্গে স্কাইপে বৈঠক করেছেন লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যুগ্ম মহাসচিবদের সঙ্গে দু’জন করে (প্রত্যেক বিভাগের জন্য) কেন্দ্রীয় সম্পাদক দায়িত্বে আছেন। এছাড়া যারা জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে আছেন তারা নিজ নিজ জেলার হয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সহযোগিতা করবেন। বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও ফরিদপুর বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন খায়রুল কবির খোকন। রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

সূত্র জানায়, সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা পুরো কার্যক্রমটি পর্যবেক্ষণ করবেন। নতুন সদস্য সংগ্রহের পাশাপাশি এ পর্যন্ত কতজন সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে সেই তথ্য নেয়া হবে। এর আগে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জেলা নেতারা কতগুলো সদস্য ফরম এনেছিলেন এবং কতজনকে সদস্য করেছেন সেই হিসাবও নেয়া হবে। তথ্য সংগ্রহে কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা দেখা হবে। পাশাপাশি যেসব জেলা তথ্য সংগ্রহে ভালো করেছে তাদের বিশেষ পুরস্কার দেয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের সেতুবন্ধন তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের তথ্য না থাকায় অনেক সময় কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয় না। দফতরের মাধ্যমে চিঠি বা ফোন করে ওই সিদ্ধান্ত জানাতে বিলম্ব হয়। তাছাড়া হাজার হাজার নেতাকে ফোন করাও সম্ভব নয়। আবার অনেককে ফোনে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। গুরুত্বপূর্ণ বা গোপনীয় কোনো তথ্য চিঠির মাধ্যমে পাঠানো হলে তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ডাটাবেজ থাকলে কেন্দ্রের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেতাদের মোবাইলে এসএমএস বা ই-মেইলে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো সম্ভব হবে। এছাড়া কোনো নেতা সম্পর্কে তথ্য জানার প্রয়োজন হলে ডাটাবেজ থেকেই সংগ্রহ করা যাবে।

হাইকমান্ডের নির্দেশ পেয়ে তথ্য সংগ্রহে তারা মাঠে নেমে পড়েছেন। বুধবার বরিশালে এ নিয়ে সভা করেন খায়রুল কবির খোকন। জানতে চাইলে খায়রুল কবির খোকন বলেন, আমাকে চার বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। বরিশালে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ সভা করেছি। স্থানীয় নেতাদের ১ সপ্তাহের মধ্যে তৃণমূলের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আমাদের দেয়ার জন্য বলেছি।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ২০১৭ সালে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের যে কর্মসূচি শুরু হয় তার হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রথম তৃণমূলে প্রতিনিধি সভা শুরু করেছিলেন, যা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও করেন। আবারও এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা কাজ শুরু করেছি, তাতে তৃণমূলের শক্তি আরও সম্প্রসারিত হবে। তথ্য সংগ্রহ শেষে আমরা সদস্যদের নতুন একটি ডাটাবেজ তৈরি করব।

হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, আমাদের এক মাসের মধ্যে তথ্য-উপাত্ত কেন্দ্রে দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযানে কতজন নতুন সদস্য হয়েছেন, বিদ্যমান সদস্য পদ কতজন নবায়ন করেছেন ইত্যাদিসহ আরও কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হবে; যা নিয়ে পরে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে নতুন প্রজন্মকে টার্গেট করে প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করে বিএনপি। একই সঙ্গে বিদ্যমান সদস্যপদও নবায়ন করা হয়। ওই বছর ১ জুলাই ১০ টাকার বিনিময়ে ফরমে স্বাক্ষর করে নিজের সদস্যপদ নবায়নের মধ্য দিয়ে এ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেন। ওই সময় এক কোটি নতুন সদস্যের টার্গেট নিয়ে সারা দেশে এ অভিযান শুরু হয়। কেন্দ্র থেকে সদস্য সংগ্রহের ফরম মহানগর, জেলা, উপজেলায় পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। কিন্তু নানা কারণে তা থমকে যায়। পুনরায় তা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটির হাইকমান্ড।